পুজোর মুখে কলকাতার রেস্তরাঁগুলিতে বড়সড় অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। নিম্নমানের খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পচা খাদ্যসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগে শহরের ৪০টি রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে আরসালান, করিমস, শিমলা বিরিয়ানির মতো পরিচিত নামও।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানান, গত সাত দিনে শহরের মোট ৫৯২টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। সেই অভিযানে মাংস থেকে সন্দেশ, ছানা-সহ মোট ১,২২৪ কেজি পচা ও ব্যবহারের অনুপযুক্ত খাবার বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
পুজোর আগে খাবারের মান ও রেস্তরাঁগুলির স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছিল গত এক সপ্তাহ ধরেই। বড় রেস্তরাঁর পাশাপাশি রাস্তার ধারের খাবারের দোকান এবং বিভিন্ন ছোট-বড় খাদ্য প্রতিষ্ঠানে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা।
অভিযানে কোথাও মজুত করে রাখা ছানায় ছত্রাকের সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগ। আবার কোথাও বিপুল পরিমাণ পচা মাংস পাওয়া গিয়েছে। রেস্তরাঁগুলির রান্নাঘর, খাদ্য সংরক্ষণের জায়গা এবং মজুত করা সামগ্রীর মানও খতিয়ে দেখা হয়।
স্মিতা পান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই ৪০টি রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, অধিকাংশ জায়গাতেই পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি এবং পচা বা নিম্নমানের সামগ্রী মজুত রাখার মতো বিষয় নজরে এসেছে।
সাসপেন্ড হওয়া রেস্তরাঁগুলির তালিকায় রয়েছে রিপন স্ট্রিটের করিমস, বাইপাসের শিমলা বিরিয়ানি, নাগেরবাজারের আরসালান, ডায়মন্ড হারবারের ডেনজং কিচেন এবং পার্ক স্ট্রিটের জন ডিওভানি। পাশাপাশি একাধিক মিষ্টির দোকানের নামও রয়েছে। তালিকায় বলরাম মল্লিকের নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যদিও ভবানীপুরের বলরাম মল্লিকের মালিক সুদীপ্ত মল্লিক স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের শাখার সঙ্গে টালিগঞ্জের যে দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড হয়েছে, তার কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, ভবানীপুরের দোকানে সমস্ত নিয়ম মেনেই কাজ করা হয় এবং তাঁদের মিষ্টি বিদেশেও যায়।
এদিকে, সাসপেন্ড হওয়া রেস্তরাঁগুলি পুজোর আগে ফের ব্যবসা শুরু করতে পারবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং লাইসেন্স পুনর্বহালের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও খাবারের গুণমান নিয়ে আপস না করার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন করা প্রয়োজন। পুজোর মরসুমে শহরের রেস্তরাঁগুলিতে ভিড় বাড়ার আগে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাঙালির পুজো মানেই খাওয়াদাওয়া। বিশেষ করে বিরিয়ানি থেকে মিষ্টি—নামী রেস্তরাঁর খাবারের প্রতি ভোজনরসিকদের আলাদা টান রয়েছে। তাই পরিচিত রেস্তরাঁগুলির নামও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের তালিকায় উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন নজর, অভিযানের পরবর্তী রিপোর্টে কী উঠে আসে এবং সাসপেন্ড হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করে।



