ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিরুদ্ধে কলকাতায় আরও কড়া হচ্ছে পুরসভার অভিযান। বুধবার আরও ২৫টি রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ৪০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে মাত্র দু’দিনে ৬৫টি হোটেল-রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় শহরের খাদ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুধু রেস্তোরাঁ নয়, আবাসিক হোটেলগুলিকেও এই নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) পরিদর্শনে এখনও পর্যন্ত ১০০০টি প্রতিষ্ঠান এসেছে। তার মধ্যে মাত্র ৪২টি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত পরীক্ষায় পাশ করেছে। অর্থাৎ, ৯৫৮টি প্রতিষ্ঠানই কোনও না কোনও ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
ফ্রিস্কুল স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই এই বিশেষ পরিদর্শন শুরু হয়। শহরের আবাসিক হোটেলগুলির নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠার পরেই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভা এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার আবাসিক হোটেল রয়েছে। ধাপে ধাপে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই পরিদর্শন চালানো হবে বলে জানিয়েছেন পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে।
মঙ্গলবারের অভিযানে একাধিক রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার হয়েছিল নষ্ট ও পচা খাবার। পুরসভার দাবি, বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মও ধরা পড়েছে। সেই অভিযানের পরেই ৪০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়। বুধবার আরও ২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এই অভিযানকে কোনও বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, ‘ফুড সেফটি সপ্তাহ’ পালনের সময় যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। মঙ্গলবারই ৫৯২টি জায়গায় পরিদর্শন চালানো হয় এবং প্রায় ১২২৪ কেজি খাদ্যসামগ্রী নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্স সাসপেনশনের বিষয়ে পুর প্রশাসকের বক্তব্য, আগে এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে অনেক বেশি সময় লাগত। এখন আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙার প্রমাণ মিললে প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা এবং খাবার সংরক্ষণের নিয়মে। পুরসভার অভিযানে একটি বড় মিষ্টির দোকানের ফ্রিজের ভিতর আরশোলা পাওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে নামী বা বড় প্রতিষ্ঠান হলেও খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেই বার্তা দিয়েছে পুরসভা।
সামনেই দুর্গাপুজো। সেই সময় কলকাতার হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলিতে ভিড় কয়েক গুণ বাড়ে। তাই তার আগেই খাদ্য ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে পরিদর্শনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই পুরসভার বক্তব্য। ফলে ১০০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪২টির পাশের পরিসংখ্যানের পর এবার নজর থাকবে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলির উপরেই।



