পার্ক স্ট্রিটের নামী রেস্তরাঁগুলির রান্নাঘরে মিলল চাঞ্চল্যকর অনিয়ম। স্বাস্থ্যদপ্তরের অভিযানে করিমস, ডন জিওভানি, তুংফং-সহ একাধিক রেস্তরাঁ খাবারের মান পরীক্ষায় ফেল করল।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল, রেস্তরাঁ ও মিষ্টির দোকানে গত তিনদিন ধরে অভিযান চালিয়ে একের পর এক অনিয়মের ছবি সামনে এসেছে। কোথাও ফ্রিজে রাখা পচা মাংস, কোথাও ছত্রাক ধরা আলু-বেবিকর্ন, আবার কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ তেল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। শুক্রবার বিকেলে সেখানে একাধিক নামী রেস্তরাঁর রান্নাঘর পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা।
অভিযানে করিমস, ডন জিওভানি এবং তুংফংয়ের মতো জনপ্রিয় রেস্তরাঁর খাবারে একাধিক সমস্যা ধরা পড়ে। পচা মাংস, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া তেল এবং ছত্রাক ধরা আলু-বেবিকর্ন পাওয়া যায় বলে অভিযোগ।
শুধু খাবার নয়, রান্নার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত ছানা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য সংরক্ষণ ও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও গুরুতর গাফিলতির ছবি ধরা পড়েছে।
তবে সব রেস্তরাঁর রিপোর্ট খারাপ নয়। পার্ক স্ট্রিটের মোক্যাম্বো এবং আর্সেলান খাবারের মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
এর আগের দিন ট্যাংরার একাধিক রেস্তরাঁয় অভিযান চালানো হয়েছিল। সেখানেও ‘বিগ বস’-এর মতো প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়মের সন্ধান পান আধিকারিকরা। পাশাপাশি ছোট খাবারের দোকান এবং মিষ্টির দোকানগুলিতেও চলে নজরদারি।
সোনারপুরের পরিচিত ‘বাবুর্চি’ রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কামালগাজির একটি নামী মিষ্টির দোকান এবং ধনেখালির একটি আইসক্রিমের দোকান থেকেও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বনগাঁয় একটি সস কারখানা সিল করার পর শুক্রবার বাগদার হেলেঞ্চা বাজারেও যৌথ অভিযান চালানো হয়। মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতে এসিবি, জেলার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর এবং বাগদা পুলিশের আধিকারিকরা রবীন্দ্র মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে অভিযান চালান।
সেখানে দইয়ে ছত্রাকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। দোকানের কারখানায় গিয়ে আধিকারিকরা অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘরের সন্ধান পান। মিষ্টিতে ক্ষতিকারক রং ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এরপর ওই সমস্ত খাদ্য উপকরণ ফেলে দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, গত তিনদিনে রাজ্যের মোট ২৩৩৭টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, বহরমপুর, আলিপুরদুয়ার, সোনারপুর, কামালগাজি, বনগাঁ এবং রাজ্যের আরও বিভিন্ন এলাকায় খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, মোট ১৭টি রেস্তরাঁ ও দোকান সিল করা হয়েছে। বহরমপুরের বিশ্বাস বেকারি এবং আলিপুরদুয়ারের শীতল সুইটস অ্যান্ড স্ন্যাক্সও সেই তালিকায় রয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরির প্রমাণ মেলায় আপাতত পাঁচটি দোকানের লাইসেন্স বাতিল এবং ১৩টি দোকান বন্ধ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তগুলি সাময়িক বলেই জানিয়েছেন তিনি।
খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতার নির্ধারিত পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি উত্তীর্ণ হলে ফের সেগুলি চালু করার সুযোগ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের বার্তা স্পষ্ট—খাবারের গুণমান নিয়ে কোনও ধরনের আপস করা হবে না, কারণ এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য।



