লাল ঝোলে রাসায়নিক রং? আসানসোলের রেস্তরাঁ-ধাবায় কড়া নজর, অমান্য করলেই বড় জরিমানা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রেস্তরাঁর ঝকঝকে লাল মাংসের ঝোল, ধোঁয়া ওঠা বিরিয়ানি কিংবা চোখধাঁধানো রঙিন মিষ্টি দেখে আর জিভে জল আনার দিন শেষ! আসানসোল শিল্পাঞ্চলের রেস্তরাঁ, ধাবা ও খাবারের দোকানে খাবারকে আকর্ষণীয় করতে রাসায়নিক রং ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য খাদ্যদপ্তর। শুক্রবার শহরের একাধিক খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়ে রান্নায় রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রমাণও পেয়েছেন আধিকারিকরা।

শুক্রবার খাদ্যদপ্তরের চার আধিকারিকের একটি দল আসানসোলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। ভগৎ সিং মোড় থেকে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং সেনরালে রোডের সংযোগস্থল পর্যন্ত একাধিক রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে হানা দেন তাঁরা। শুধু খাবারের নমুনা দেখা নয়, আধিকারিকরা সরাসরি রান্নাঘরে ঢুকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

অভিযানের সময় কয়েকটি খাবারকে আরও লোভনীয় করে তুলতে রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রমাণ মেলে বলে খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁগুলিতে তৈরি খাবার নষ্ট করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ শুধুমাত্র সতর্ক করেই অভিযান শেষ করেননি আধিকারিকরা।

খাবারে বাড়তি রং মিশিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার প্রবণতা বন্ধ করতে ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে খাদ্যদপ্তর। আগামী দিনে কোনও খাবারে অনিয়ম করে রাসায়নিক রং ব্যবহার করা যাবে না। বেশি মুনাফার আশায় কেউ এই নিয়ম অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

শুধু রাসায়নিক রং নয়, খাবারের সামগ্রিক গুণমান এবং রান্নার জায়গার পরিচ্ছন্নতার উপরও জোর দিয়েছে খাদ্যদপ্তর। রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানগুলিকে রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা এবং খাবারের মান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখেও পড়তে হতে পারে।

এই তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে সামনেই দুর্গাপুজো। পুজোর সময়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার পাশাপাশি রাস্তার ধারের খাবারের দোকান, ধাবা ও রেস্তরাঁয় খাওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়। সেই সময় রঙিন ও দেখতে আকর্ষণীয় খাবারের চাহিদাও থাকে বেশি।

খাবারকে চোখে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে অতিরিক্ত বা অনুপযুক্ত রাসায়নিক রং ব্যবহার করলে তা ক্রেতাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই দুর্গাপুজোর আগে থেকেই খাবারের দোকানগুলিতে নজরদারি বাড়িয়ে সম্ভাব্য সমস্যা ঠেকাতে চাইছে খাদ্যদপ্তর।

ফলে আসানসোলের রেস্তরাঁ ও ধাবা মালিকদের জন্য বার্তা স্পষ্ট—খাবারের রং ও মান নিয়ে কোনওরকম কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। সামনে উৎসবের মরসুমে অভিযান আরও জোরদার হলে নিয়ম ভাঙা ব্যবসায়ীদের জরিমানা ও অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন