পুরনির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড়সড় সাংগঠনিক পদক্ষেপ করল বঙ্গ বিজেপি। বুধবার পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটির তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি। ২৬৩ জনের এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে প্রবীণ ও পুরনো কর্মীরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তালিকায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং তাঁর বাবা শিশির অধিকারীও।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষর করা তালিকায় প্রথম দিকেই রয়েছে শুভেন্দুর নাম। তাঁকে তমলুক সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকা ‘অধিকারী গড়’ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে কাঁথি সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিশির অধিকারীকে। ফলে দুই সাংগঠনিক জেলাতেই অধিকারী পরিবারের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হল।
কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং শান্তনু ঠাকুরও। সুকান্তের হাতে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব। শান্তনু ঠাকুরের দায়িত্ব বনগাঁ। রাজ্যের মন্ত্রীদের মধ্যেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, তাপস রায়ের দায়িত্ব উত্তর কলকাতা। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছে বীরভূমের দায়িত্ব। নিশীথ প্রামাণিকের হাতে কোচবিহার এবং শঙ্কর ঘোষের হাতে শিলিগুড়ির সাংগঠনিক দায়িত্ব রয়েছে। ডায়মন্ড হারবারে দলের সংগঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি।
শুধু বর্তমান সময়ের পরিচিত মুখ নয়, নতুন কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দলের পুরনো ও অভিজ্ঞ কর্মীদেরও। রাজকমল পাঠক, শ্যামচাঁদ ঘোষ-সহ একাধিক প্রবীণ বিজেপি নেতা কার্যকরী কমিটির সদস্য হয়েছেন। ফলে একদিকে যেমন জনপ্রতিনিধি ও শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনই সংগঠনের পুরনো স্তম্ভদেরও কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি নিয়ে জল্পনা ছিল। ২০২৫ সালে সুকান্ত মজুমদারের জায়গায় রাজ্য সভাপতি হন শমীক। এরপর প্রায় ১৪ মাস ধরে কমিটি ঘোষণার অপেক্ষা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বুধবার তাঁর স্বাক্ষরিত তালিকা প্রকাশ্যে আসায় সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হল।
কমিটি ঘোষণার সময়টিও রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পুজো মিটলেই কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই ভোটকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই সংগঠন গোছানোর কাজে নেমে পড়েছে বিজেপি। দফায় দফায় বৈঠক, সাংগঠনিক আলোচনা এবং স্থানীয় স্তরে প্রস্তুতি চলছে। তার মধ্যেই ২৬৩ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে পুরভোটের আগে সংগঠনকে সক্রিয় করার বার্তা দিল রাজ্য বিজেপি।
এখন দেখার, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নিজেদের সাংগঠনিক এলাকায় কতটা দ্রুত সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারেন। বিশেষ করে তমলুক, কাঁথি, ডায়মন্ড হারবার, কলকাতা, কোচবিহার এবং শিলিগুড়ির মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই নতুন দায়িত্ব বণ্টন পুরভোটের লড়াইয়ে বিজেপিকে কতটা সুবিধা দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



