রাজ্যে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সামনে রেখে নতুন দিশার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে আসন্ন রাজ্য বাজেটেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এসেছে শিল্প ও অর্থনীতিকে ঘিরে একটি ‘ত্রিমুখী নীতি’। তাঁর দাবি, দেশের যেসব রাজ্য অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়েছে, তাদের সাফল্যের পিছনে এই ধরনের বহুমুখী উন্নয়ন মডেল কাজ করেছে। সেই পথেই হাঁটতে চায় পশ্চিমবঙ্গ।
প্রথমত, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে শূন্যপদ পূরণের উপর জোর দেওয়া হবে। যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা এবং বেকার যুবকদের সহজ ঋণ ও ভর্তুকিভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে স্বনির্ভরতার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
তৃতীয়ত, ভারী শিল্প, এমএসএমই, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, উদ্যানপালন, মৎস্যচাষ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সব ক্ষেত্রে প্রসেসিং ইউনিট ও শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জমি নীতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিল্পায়নের জন্য জোর করে জমি অধিগ্রহণের পথে হাঁটবে না সরকার। বরং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জমি দিতে আগ্রহী হবেন। অতীতের জমি আন্দোলন ও শিল্প বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।
আসন্ন পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে। তিনি জানিয়েছেন, ২০ জুন পেশ হতে চলা বাজেটে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং স্বনির্ভর অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা থাকতে পারে। বিশেষ করে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দের অর্থ কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তার রূপরেখা বাজেটেই স্পষ্ট হবে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে টাটা গোষ্ঠীকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য। শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছেন, টাটাকে ফের পশ্চিমবঙ্গে আনতে সরকার আগ্রহী। যদিও সিঙ্গুরে নতুন প্রকল্প হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কিছু বলতে চাননি তিনি। তাঁর মতে, সিঙ্গুরের জমির বর্তমান অবস্থা এবং মালিকানা কাঠামো আগের থেকে অনেকটাই বদলে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য শিল্পমহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিল্প বিনিয়োগে পিছিয়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গ নতুন সরকারের নীতিতে কতটা গতি পায়, এখন সেদিকেই নজর অর্থনীতি ও শিল্পক্ষেত্রের পর্যবেক্ষকদের।



