সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে নতুন মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পৌঁছল সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার লক্ষ্য, বিতর্কিত রেজোলিউশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করা।
সোমবার দুপুরে সিআইডির একটি দল বিধানসভায় যায়। সূত্রের খবর, স্পিকারের সচিবালয়ে জমা থাকা রেজোলিউশন কপি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেই এই পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরেই ওই নথির সন্ধান করছে তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তের শুরু থেকেই সই জালিয়াতি মামলায় একাধিক তৃণমূল নেতা, বিধায়ক ও সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু’দফায় জেরা করা হয়েছে। একইসঙ্গে কুণাল ঘোষকেও ডেকে প্রশ্ন করা হয়। পরে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
তদন্তকারী মহলের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিছু বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে অসংগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিতর্কিত রেজোলিউশনের কপি কোথায় রয়েছে, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলেই সূত্রের দাবি।
এর আগে ওই নথির খোঁজে কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তবে সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত নথি উদ্ধার হয়নি। ফলে তদন্তকারীরা অন্য সূত্র ধরে এগোতে শুরু করেছেন।
সূত্রের দাবি, জেরার সময় রেজোলিউশন সংক্রান্ত নথি নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দিষ্ট কোনও তথ্য দেননি। এর পরই তদন্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিধানসভার নথি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিআইডির একাংশের মতে, সই জালিয়াতি মামলার রহস্যভেদে রেজোলিউশন কপির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেই নথির উৎস, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, একই বিষয়ে বারবার তলব ও পুনরাবৃত্ত প্রশ্ন তদন্তকে জটিল করে তুলছে। তাঁদের মতে, যাঁদের সই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকেই সরাসরি সত্যতা যাচাই করলে বিষয়টি দ্রুত স্পষ্ট হতে পারে।
তবে তদন্তকারী সংস্থা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে বিধানসভা থেকে কী তথ্য বা নথি সংগ্রহ করা হয়েছে, তা এখনই পরিষ্কার নয়।
সই জালিয়াতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য ও প্রশ্ন সামনে আসছে। বিধানসভায় সিআইডির এই পদক্ষেপ তদন্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।



