সন্দেশখালির বহুচর্চিত জমিদখল মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার কলকাতার বিশেষ ইডি আদালতে শাহজাহান শেখ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ভয় দেখিয়ে এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, এই মামলায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ‘প্রসিড অফ ক্রাইম’ বা অপরাধলব্ধ সম্পদের হদিস পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, জমি দখল ও সংশ্লিষ্ট বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে এই অর্থ অর্জিত হয়েছিল।
শাহজাহান শেখের পাশাপাশি আলমগির, শিবপ্রসাদ হাজরা এবং দিদার বক্স মোল্লার বিরুদ্ধেও চার্জ গঠন করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৭ জুলাই থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হবে। এই মামলায় মোট ৩০ জন সাক্ষী রয়েছেন, যাঁদের বয়ান আদালতে রেকর্ড করা হবে।
প্রথমে রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে শাহজাহান শেখের নাম সামনে আসে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছিলেন ইডির আধিকারিকরা। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরেই তিনি অধরা ছিলেন।
পরবর্তীতে প্রায় দু’মাস পর শাহজাহান শেখকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিবিআই হেফাজতে থাকাকালীন ইডিও তাঁকে গ্রেফতার করে নিজেদের তদন্তে যুক্ত করে।
সন্দেশখালিকে কেন্দ্র করে শাহজাহান শেখের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর অত্যাচার, জমি জবরদখল, মাছের ব্যবসার আড়ালে বেআইনি আর্থিক কার্যকলাপ এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তদন্তের আওতায় আসে।
এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছিল। গ্রেফতারের পর তৃণমূল কংগ্রেস শাহজাহান শেখকে দল থেকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এখন চার্জ গঠন সম্পন্ন হওয়ায় মামলার বিচার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। আগামী দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ এবং প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি আদালতের সামনে উঠে আসবে। ফলে সন্দেশখালির এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।



