পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে রহস্যময় ‘MM’। এই সূত্র ধরেই শনিবার কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানায় অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া কিছু নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শনিবার সকালে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মোট আটটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় ED। এর মধ্যে মদন মিত্রের ভবানীপুর, দক্ষিণেশ্বর ও অন্যান্য ঠিকানাও ছিল। তদন্তকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে নথি খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরিতে ‘MM’ নামে উল্লেখ ছিল। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে। তবে ‘MM’ কার নামের সংক্ষিপ্ত রূপ, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা আদালত-স্বীকৃত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
অয়ন শীলকে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগ, তাঁর সংস্থা রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওএমআর শিট প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও তাদের ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
ED সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের তদন্তে একাধিক আর্থিক লেনদেন এবং মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার তথ্য সামনে এসেছে। সেই সূত্রেই কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, বেআইনি নিয়োগের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের একটি চক্র সক্রিয় ছিল। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মদন মিত্র বা তাঁর আইনজীবীদের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এদিনের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন এবং উদ্ধার হওয়া নথিগুলির মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করা। তদন্তকারী সংস্থা বিভিন্ন নথি ও ডিজিটাল তথ্যও সংগ্রহ করেছে বলে সূত্রের খবর।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মদন মিত্রের নাম সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
এখন নজর থাকবে ED-র পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে তার দিকে। কারণ ‘MM’ রহস্যের জট খুললে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসতে পারে।



