অশোকনগরে তৃণমূল নেতাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ নথি পোড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অশোকনগর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে প্রবোধ সরকারের বাড়ির সামনে জড়ো হন এলাকার বহু বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল বাড়ির ভিতরে নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকাবাসী তাঁর বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বাড়ির ভিতরে কিছু নথি পোড়ানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অশোকনগর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রবোধ সরকারকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা যায়।
শনিবার সকালে তাঁকে আদালতে পেশ করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় আদালত চত্বরে বা তার আশপাশে উপস্থিত একদল বিক্ষোভকারী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ছোড়া হয়। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি দ্রুত আদালতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর তখনি রীতিমতো পরনে থাকা প্যান্ট খুলে যেতে থাকে তাঁর। সেই প্যান্ট তুলেই ছুট তৃণমূল নেতার।
এদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পুরসভার আর্থিক অনিয়ম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করার অভিযোগের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিক্ষোভ ছিল জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। যদিও ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় দলের সরাসরি কোনও ভূমিকা নেই বলেই দাবি করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, প্রবোধ সরকার বা তাঁর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে নথি পোড়ানোর অভিযোগের সত্যতা এখন তদন্তের উপরেই নির্ভর করছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া নথি, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেটাই এখন এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।
অশোকনগরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর রয়েছে।



