তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে চাপা অস্বস্তি কি এবার প্রকাশ্যে? দলীয় কর্ম সমিতির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কুণাল-অভিষেকের তীব্র বাদানুবাদ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সূত্রের দাবি, উত্তপ্ত পরিবেশ শান্ত করতে এগিয়ে আসেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
শনিবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক বসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ একাধিক নেতা। বৈঠকের এক পর্যায়ে সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে আলোচনা চলাকালীনই মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
সূত্রের দাবি, সম্প্রতি শিবির বদল করা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতির দায়িত্ব কুণাল ঘোষকে দেওয়া হয়। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই কুণাল আরও কয়েকটি সাংগঠনিক পরিবর্তনের দাবি জানান।
জানা গিয়েছে, কুণালের প্রস্তাবের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সব বিষয় পর্যায়ক্রমে দেখা হবে এবং পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হননি কুণাল। বৈঠকের মধ্যেই দুই নেতার মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় বলে সূত্রের দাবি।
বৈঠক শেষ হওয়ার পরও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। তৃণমূলের অন্দরমহলের সূত্রে খবর, কুণালকে দেখেই অভিষেক প্রশ্ন করেন তিনি কি ঝগড়া করার উদ্দেশ্যেই বৈঠকে এসেছিলেন। পাল্টা কুণাল জানান, তিনি দলের স্বার্থে নিজের মতামতই তুলে ধরেছেন।
এরপর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়। সূত্রের খবর, সুমিতকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে কুণালের কাছে ব্যাখ্যা চান অভিষেক। জবাবে কুণাল স্পষ্ট করেন, তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করেননি, তবে সুমিত রায়কে ঘিরে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
দলীয় সূত্রের আরও দাবি, এই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে এগিয়ে আসেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দুই নেতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাকবিতণ্ডা চলতেই থাকে।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিজেই হস্তক্ষেপ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের দাবি, মমতা তিন নেতার মাথায় হাত রেখে বলেন, “ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, দলের এই কঠিন সময়ে সকলকে সংযত থাকতে হবে এবং একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।
তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দলের ভিতরে মতপার্থক্য থাকলেও নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট— সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এখন ঐক্যবদ্ধ থাকাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



