১১ ঘণ্টা জেরার মূল জিজ্ঞাসা মাত্র দু’টি! ইডি কী কী প্রশ্ন করল অভিষেককে? কী উত্তর এল?

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ১১ ঘণ্টার জেরায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মূলত দুটি বিষয়েই প্রশ্ন করে ইডি, সূত্রের দাবি ১২ পাতার প্রশ্নমালার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওই দুই ইস্যু।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রায় ১১ ঘণ্টার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ, ১২ পাতার প্রশ্নমালা, কিন্তু তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মাত্র দুটি প্রশ্ন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-র সামনে হাজিরা দেওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা— ১১ ঘণ্টা জেরার মূল জিজ্ঞাসা কী ছিল? সূত্রের দাবি, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মূলত দু’টি বিষয় নিয়েই বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে প্রায় ১১ ঘণ্টা কাটান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। জেরা শেষে তিনি দাবি করেন, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তবে তদন্তকারী সূত্রে জানা যাচ্ছে, দীর্ঘ সময়ের জেরার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুটি নির্দিষ্ট ইস্যু।

একদিকে ছিল অভিষেকের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’, অন্যদিকে সিবিআইয়ের চার্জশিটে উল্লেখ থাকা একটি অডিয়ো ক্লিপ। এই দুই বিষয়কে ঘিরেই বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন তদন্তকারীরা বলে খবর।

সূত্রের দাবি, তদন্তকারীদের প্রথম প্রশ্ন ছিল লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে। বিশেষ করে তিনি কতদিন ওই সংস্থার সিইও পদে ছিলেন এবং কোন সময়কাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব সামলেছেন, তা জানতে চাওয়া হয়।

জেরার দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল একটি বিতর্কিত অডিয়ো ক্লিপকে ঘিরে। সিবিআইয়ের তৃতীয় সম্পূরক চার্জশিটে উল্লেখিত ওই অডিয়োতে এক ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর নাম উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

সেই প্রসঙ্গেই অভিষেককে প্রশ্ন করা হয়, চার্জশিটে উল্লেখ থাকা অডিয়োর ওই ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ আদৌ তিনি কি না। তদন্তকারীরা এই বিষয়টি নিয়েই বারবার ব্যাখ্যা জানতে চান বলে সূত্রের খবর।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক অবশ্য তদন্তের নির্দিষ্ট প্রশ্ন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে তিনি স্পষ্ট জানান, তদন্তে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং যে প্রশ্ন করা হয়েছে, তার প্রতিটির উত্তর দিয়েছেন।

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অতীতেও বহুবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা দিয়েছেন। দিল্লিতে তলব করা হলেও গিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও ডাকা হলে সহযোগিতা করবেন।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে বহুদিন ধরেই বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন এবং অডিয়ো সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। সোমবারের ১১ ঘণ্টার জেরার পর স্পষ্ট, তদন্তের ফোকাস আপাতত ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ এবং চার্জশিটে উল্লেখিত অডিয়ো ক্লিপ— এই দুই বিষয়কে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর