প্রায় ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে শুধু তদন্ত নিয়ে নয়, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্ফোরক বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তদন্তে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন, কিন্তু একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন।
সোমবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-র সামনে হাজিরা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তদন্ত থেকে রাজনীতি, ভোটার তালিকা থেকে বিরোধী দমন— একাধিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
অভিষেক কী কী বললেন? এক নজরে ১১ পয়েন্ট
১. একাধিকবার তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা
এর আগেও বহুবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হয়েছেন তিনি। দিল্লিতেও দু’বার তলব করা হয়েছিল এবং দু’বারই গিয়েছেন। সব মিলিয়ে ১০-১২ বার হাজিরা দিয়েছেন বলে দাবি অভিষেকের।
২. তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতার দাবি
তাঁর কথায়, তদন্তে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং যে প্রশ্ন করা হয়েছে, তার প্রতিটির উত্তর দিয়েছেন।
৩. রাজনৈতিক চাপের প্রশ্নে সরাসরি মন্তব্য নয়
তদন্তের পিছনে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিজেপি সম্পর্কে যত কম বলা যায়, ততই ভালো বলে মন্তব্য করেন।
৪. বিরোধী শক্তিকে দমনের অভিযোগ
গত এক মাস ধরে বিরোধী দলকে ভয় দেখানো, দুর্বল করা এবং চুপ করিয়ে দেওয়ার ধারাবাহিক চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলেন।
৫. ‘বিরোধীশূন্য বাংলা’ তৈরির চেষ্টা
যারা মাথা নত করতে রাজি নয়, তাদের টার্গেট করে পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধীশূন্য করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন অভিষেক।
৬. ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ
বিভিন্ন অজুহাত, এফআইআর এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
৭. কাউন্টিং এজেন্টদের উপর চাপ
বিরোধী দলের কাউন্টিং এজেন্টদের ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি করা এবং গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
৮. দল ভাঙানোর রাজনীতির অভিযোগ
চক্রান্ত, ভাঙন, সাংসদ ও বিধায়কদের প্রভাবিত করে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে, তবে তা সফল হবে না বলে দাবি।
৯. ‘মাথা নত করব না’ বার্তা
মানুষের স্বার্থে যারা লড়াই করে, তারা কোনও চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার চেষ্টা হলেও লড়াই চলবে বলে বার্তা দেন।
১০. নিয়োগ মামলার তদন্তে বিলম্বের প্রশ্ন
যে মামলায় তাঁকে তলব করা হয়েছে, তার এফআইআর চার বছর আগে দায়ের হয়েছিল। সিবিআই ২০২২ সালের জুনে তদন্ত শুরু করলেও এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলে দাবি করেন।
১১. নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পূর্ণ করার দাবি
যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের চাকরি পাওয়া নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
১১ ঘণ্টার জেরা শেষে তাঁর এই ১১ দফা বক্তব্য এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।



