আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলায় ফের সক্রিয় সিবিআই। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন করে শুরু হওয়া তদন্তে সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শুরু করে ডিউটি রোস্টার— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর সদস্যরা সোমবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের কর্মী, নিরাপত্তারক্ষী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। বেশ কয়েকজনের বক্তব্য রেকর্ডও করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা ডিজিটাল এবং ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণ নতুন করে পর্যালোচনা করছেন। বিশেষ করে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার দিন ও তার আগের কয়েক দিনের ডিউটি রোস্টার খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দাদের একাংশের মতে, তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণও করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যজুড়ে।
প্রাথমিক তদন্তে কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
তবে তদন্তের পরিধি এবং কিছু প্রশ্নের উত্তর না মেলায় সন্তুষ্ট ছিলেন না নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্তের দাবি ওঠে।
গত ২১ মে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
হাইকোর্ট আগামী ২৫ জুনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে সিবিআইয়ের তদন্ত কোন নতুন তথ্য বা সূত্র সামনে আনে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।



