মহম্মদ শামির (Mohammed Shami) ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থামছেই না। বয়স ও চোটের ইতিহাসের কারণে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তিনি কতটা রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এখনই হাল ছাড়ার সময় নয় বলেই মনে করছেন ভারতের প্রাক্তন পেসার জাহির খান (Zaheer Khan)। তাঁর পরামর্শ, নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবনা না বাড়িয়ে শামিকে শুধু নিজের পারফরম্যান্সের দিকে নজর দিতে হবে।
শামির জন্য বার্তাটা বেশ পরিষ্কার জাহিরের। তাঁর মতে, একজন ক্রিকেটারের হাতে যা রয়েছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শামি যদি নিয়মিত ম্যাচ খেলেন এবং নিজের সেরা ছন্দে বল করতে পারেন, তাহলে ২০২৭ বিশ্বকাপের দরজা তাঁর জন্য পুরোপুরি বন্ধ ধরে নেওয়া যায় না। তবে শেষ সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের হাতেই থাকবে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন জাহির।
জাহিরের বক্তব্য, ‘‘যা হাতে আছে, শুধু সেটা নিয়েই ভাবো। কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে, সেটা ওর হাতেই আছে। যদি ও খেলে যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে ও ২০২৭-এর বিশ্বকাপের জন্য তৈরি।’’ একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনাকে নিয়ে অতিরিক্ত কাটাছেঁড়া না করে শামির কাজ হওয়া উচিত মাঠে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করা।
জাহিরের মতে, শামিকে দেখাতে হবে তিনি এখনও দলের জন্য কতটা কার্যকর হতে পারেন। তাঁর কথায়, শামির হাতে আপাতত একটাই কাজ—ম্যাচ খেলা এবং পারফর্ম করা। অর্থাৎ প্রত্যাবর্তনের রাস্তা তৈরি করতে হলে অভিজ্ঞ পেসারকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নির্বাচকদের নজরে ফিরতে হবে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি শামির পক্ষে খুব একটা সহজ নয়। ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একাধিক তরুণ পেসারকে নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে নতুন প্রজন্মের পেস আক্রমণ তৈরি করতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
সেই পরিকল্পনায় শামির জায়গা কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমনও জল্পনা রয়েছে, নির্বাচকদের নজরে প্রায় ১৫ জন তরুণ পেসার রয়েছেন, যাঁদের ধীরে ধীরে বিভিন্ন ফরম্যাটে তৈরি করা হতে পারে। ফলে আগামী কয়েক বছরে ভারতীয় পেস আক্রমণে জায়গা পাওয়ার লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে।
শামির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু বয়স নয়, দীর্ঘ সময় চোটের কারণে ক্রিকেটের বাইরে থাকা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর শেষ দিকের সময়টাও চোট এবং ফিটনেসের সমস্যায় প্রভাবিত হয়েছে। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে তিনি এখনও ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন, জাতীয় দলের নির্বাচনে সেই পারফরম্যান্স কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন প্রশ্ন।
এর মধ্যেই একটি সম্ভাবনার কথাও ক্রিকেটমহলে ঘুরছে। জশপ্রীত বুমরাহর (Jasprit Bumrah) চোট-আঘাতের ইতিহাসের কথা মাথায় রেখে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ বিকল্প হিসেবে শামিকে বিবেচনা করা হতে পারে। বুমরাহ পুরোপুরি ফিট না থাকলে কিংবা টুর্নামেন্টের আগে কোনও সমস্যা তৈরি হলে শামির অভিজ্ঞতা ভারতের কাজে লাগতে পারে।
বিশেষ করে বড় ম্যাচে শামির রেকর্ড তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। নতুন বলে সুইং, পুরনো বলে সিম মুভমেন্ট এবং উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে তিনি এখনও ভারতের অন্যতম অভিজ্ঞ পেসার। তাই তরুণদের ভিড়ে তাঁর জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নও থাকছে।
তবে এখনই ২০২৭ বিশ্বকাপের দল নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা যাচ্ছে না। শামির সামনে তাই জাহিরের পরামর্শ মেনে একটাই রাস্তা—নিয়মিত ক্রিকেট খেলা, ফিট থাকা এবং ধারাবাহিক ভাবে উইকেট নেওয়া। মাঠে পারফরম্যান্স যদি নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে, তবেই ২০২৭ বিশ্বকাপের স্বপ্ন আবার বাস্তব হয়ে উঠতে পারে।



