লোকসভার ভিতরে মহিলা সাংসদদের প্রতি ‘আপত্তিকর’ ও ‘অসম্মানজনক’ আচরণের অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহিষ্কারের দাবি জানালেন NCPI নেত্রী তথা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, শুধু তাঁকেই নয়, একাধিক মহিলা সাংসদকে বারবার ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নারী-বিদ্বেষী মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে।
সদ্য তৃণমূল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ সংসদের মর্যাদার পরিপন্থী। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বারবার ব্যক্তিগত কটাক্ষ ও মৌখিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি।
চিঠিতে কাকলি উল্লেখ করেছেন, একাধিকবার তাঁকে লক্ষ্য করে নারী-বিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্য মহিলা সাংসদদের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করেছেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য সংসদের পরিবেশকে মহিলাদের জন্য অস্বস্তিকর করে তুলছে।
NCPI নেত্রীর দাবি, একজন সাংসদের কাছ থেকে যে শালীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। তাঁর বক্তব্য, লোকসভার নিয়ম ও সাংসদীয় আচরণবিধির পরিপন্থী এই ধরনের মন্তব্য সংসদের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
চিঠিতে সংবিধানের ১০৫ নম্বর ধারার প্রসঙ্গও টেনেছেন কাকলি। তাঁর বক্তব্য, বাক্স্বাধীনতার অধিকার থাকলেও সেই অধিকার ব্যবহার করে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্থা করা যায় না। বারবার একই ধরনের আচরণ করে লোকসভার মর্যাদাহানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এই প্রথম নয়, গত ২৮ মে-ও একই অভিযোগে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন কাকলি। সেবারও তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থা ও নারীবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর মতে, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্পিকারের কঠোর পদক্ষেপ করা উচিত।
অন্যদিকে, কাকলির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। কাকলির অভিযোগের জবাবে কল্যাণ কটাক্ষ করে বলেন, “২০১১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত আমি মুখ্যসচেতক ছিলাম। ওঁর আবার এত অভিযোগ কিসের?”
সেখানেই থামেননি তিনি। নারদ মামলার প্রসঙ্গ টেনে কাকলিকে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে নয়, বরং কাকলির বিরুদ্ধেই উঠেছিল। পাশাপাশি রাজ্যের ‘সিন্ডিকেট রাজনীতি’ নিয়েও কাকলিকে আক্রমণ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অসন্তোষের সুর শোনা যায়। কাকলি-সহ একাধিক সাংসদ প্রকাশ্যে আপত্তি জানান।
প্রথমে শোনা গিয়েছিল, দলের ভিতরেই আলাদা ব্লক গঠনের পথে হাঁটতে পারেন কাকলি ও তাঁর অনুগামীরা। তবে শেষ পর্যন্ত রবিবার কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল NCPI-তে যোগ দেন। আর তার পরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একবার সরব হয়ে তাঁর বহিষ্কারের দাবিতে স্পিকারের দ্বারস্থ হলেন কাকলি, যা আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।



