ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ফের বৈঠক বিদ্রোহী সাংসদদের, আজই স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা

দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠকে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। পৃথক ব্লক গঠন ও স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভায় সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখন দিল্লিতে ফের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে রবিবার শুরু হয়েছে এই বৈঠক। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই বৈঠকের ফলাফল এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও। ফলে বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং সংসদীয় অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, বৈঠকের পরই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন বিদ্রোহী সাংসদরা। ইতিমধ্যেই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বৈঠকেই তাঁরা পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানাতে পারেন।

এদিকে বৈঠক শুরুর আগেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দলের অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়কের অনুরোধেই তিনি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের আবেগ ও প্রত্যাশা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সুদীপ। তাঁর বক্তব্য, বিদ্রোহী শিবিরের ইচ্ছা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রধান উপদেষ্টা ও সর্বোচ্চ নেত্রী হিসেবে থাকুন এবং তাঁর নির্দেশনাতেই দল পরিচালিত হোক।

রবিবারের বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, অরূপ চক্রবর্তী এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ উপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে সংসদে ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং সাংগঠনিক কাঠামো।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, স্পিকারের কাছে তাঁরা পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতির পাশাপাশি লোকসভায় আলাদা আসন বিন্যাসের দাবিও জানাতে পারেন। তবে আরেকটি সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে বর্তমান সংসদীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে পারেন।

সেক্ষেত্রে লোকসভার দলনেতা পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি মুখ্য সচেতক পদে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বহাল রাখার আবেদনও জানানো হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের মধ্যে আরও একটি ঘরোয়া বৈঠক করতে পারেন বলেও খবর। রবিবার রাতে নিজের দিল্লির বাসভবনে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই বৈঠকেই আগামী দিনের রণকৌশল চূড়ান্ত হতে পারে।

এরই মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়ে দাবি করেছেন, বিদ্রোহী শিবিরে সাংসদের সংখ্যা আর ২০-এ সীমাবদ্ধ নেই, তা বেড়ে ২২-এ পৌঁছেছে। যদিও ওই দুই অতিরিক্ত সাংসদের পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

লোকসভার নতুন অধিবেশন শুরুর আগে দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের এই ধারাবাহিক বৈঠক এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও গভীর করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করতে পারে সংসদে এই নতুন সমীকরণ কতটা বাস্তব রূপ পায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন