এনসিপিআই (NCPI) নামটি রবিবারের আগে প্রায় অচেনাই ছিল রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা হওয়ার পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দলটি। এবার ফেসবুকেও সক্রিয় হয়ে নিজেদের ‘বাংলার সবচেয়ে বড় সংসদীয় শক্তি’ বলে দাবি করল এনসিপিআই।
লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন আশ্রয় হিসেবে এনসিপিআই-এর নাম সামনে আসার পর থেকেই দলটিকে ঘিরে কৌতূহল বাড়ছে। সেই আবহেই সামাজিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি জোরদার করতে দেখা গেল দলটিকে।
এনসিপিআই-এর নতুন ফেসবুক পেজে একাধিক পোস্টে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানানো হয়েছে। শুধু বিদ্রোহী শিবিরের সদস্যরাই নন, আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিন্হাকেও স্বাগত জানিয়ে পোস্ট করা হয়েছে বলে দেখা গিয়েছে।
দলের তরফে প্রকাশিত একটি গ্রাফিক্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, লোকসভার সাংসদ সংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে এখন এনসিপিআই-ই বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি।
ওই গ্রাফিকে দেখানো হয়েছে যে, বর্তমানে বিজেপির ১২ জন, তৃণমূলের ৮ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন সাংসদ রয়েছেন। অন্যদিকে এনসিপিআই-এর সাংসদ সংখ্যা ২০ বলে দাবি করা হয়েছে।
গ্রাফিকের সঙ্গে দেওয়া বার্তায় লেখা হয়েছে, “লোকসভায় ২০টি আসন নিয়ে এনসিপিআই এখন সংসদীয় শক্তির বিচারে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম শক্তি। জাতীয় স্তরে রাজ্যের কণ্ঠস্বর।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এতদিন কার্যত অচেনা একটি দল হঠাৎ করেই জাতীয় স্তরে আলোচনায় চলে এসেছে বিদ্রোহী সাংসদদের যোগদানের কারণে। ফলে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার করছে এনসিপিআই।
উল্লেখ্য, রবিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা জানান, তাঁদের সংসদীয় ব্লক এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হচ্ছে। তারপর থেকেই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এই দল।
একদিন আগেও যে দলের নাম অধিকাংশ রাজনৈতিক কর্মী বা সাধারণ মানুষ শোনেননি, সেই এনসিপিআই এখন নিজেদের বাংলার সবচেয়ে বড় সংসদীয় শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এই দাবি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।



