লোকসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আগে ফের চর্চার কেন্দ্রে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শিবির। দিল্লি রওনা হওয়ার আগে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিস্ফোরক দাবি— বিদ্রোহীদের সংখ্যা আর ২০-এ আটকে নেই, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, আরও কোন দুই সাংসদ শেষ মুহূর্তে শিবির বদলের পথে হাঁটতে চলেছেন?
সোমবার লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপের আগে দিল্লিতে জমতে শুরু করেছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের শিবির। সূত্রের খবর, স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন তাঁরা। আর সেই আবহেই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা নিয়ে কাকলির নতুন দাবি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
দিল্লিতে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একটি বৈঠক এবং নৈশভোজের আয়োজন করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে আগামী দিনের রণকৌশল চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক সূত্রের মতে, বিদ্রোহী শিবিরের সামনে দু’টি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে। একদিকে তাঁরা লোকসভায় নিজেদের পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানাতে পারেন। অন্যদিকে, নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে তুলে ধরে বর্তমান সংসদীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবিও তুলতে পারেন।
সেই ক্ষেত্রে লোকসভায় দলনেতা পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে বলেও জল্পনা চলছে। পাশাপাশি মুখ্য সচেতক পদে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বহাল রাখার দাবি উঠতে পারে।
এছাড়াও, বিরোধী বেঞ্চ থেকে সরে এনডিএ সাংসদদের পাশে বসার আবেদনও জানানো হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
প্রথম দফায় প্রকাশ্যে আসা চিঠিতে ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর ছিল। সেই তালিকায় ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দেব, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়, মালা রায়, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, কালীপদ সোরেন-সহ একাধিক সাংসদ।
পরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই শিবিরে যোগ দেওয়ার পর সংখ্যাটি ২০-এ পৌঁছায়। তবে কাকলির দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে সেই সংখ্যা ২২। ফলে আরও দুই সাংসদের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদ, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং সাজদা আহমেদের মতো সাংসদরা।
সোমবার লোকসভায় কী পদক্ষেপ নেয় এই বিক্ষুব্ধ শিবির, সেটাই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রধান নজরের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, সংখ্যার এই নতুন অঙ্ক তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।



