রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের আবহে ফের আলোচনার কেন্দ্রে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের শিবিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার পর এবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য করলেন তিনি। একদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখার কথা বললেন, অন্যদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর মুখে।
মঙ্গলবার লোকসভার সচিব উৎপলকুমার সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এরপর লোকসভা সচিবালয় থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং উন্নয়ন নিয়ে মতামত জানান।
রচনার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের গতি প্রত্যাশিত ছিল না। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করতে গেলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমর্থনের পথে হেঁটেছেন বলে জানান।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রশংসা করে রচনা বলেন, গত কয়েক মাসে রাজ্যে উন্নয়নের গতি দৃশ্যমান হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও তাঁর দাবি।
তবে রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে বলে স্পষ্ট করেন রচনা। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “তৃণমূল মানেই দিদি”—এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
রচনার বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, মানুষ তাঁকে শুধুমাত্র অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন সাংসদ হিসেবে এলাকার উন্নয়ন ঘটানোর প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছেন। সেই দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যেই তিনি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের একাংশের সাংসদ দলীয় অবস্থান থেকে সরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও জড়িয়েছে। যদিও তিনি এদিন স্পষ্ট করে জানান, তাঁর সমস্ত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ।



