ভোটের প্রচারের উত্তাপে যখন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, ঠিক তখনই মগরাহাট পশ্চিমে সভামঞ্চ থেকে একেবারে ভিন্ন সুরে বার্তা দিলেন সামিম আহমেদ। তৃণমূলের এই প্রার্থী তাঁর বক্তব্যে জোর দিলেন স্বাস্থ্য পরিষেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানের ওপর—যা এই নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ডায়মন্ড হারবারের জনসভায় দাঁড়িয়ে সামিম আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, মগরাহাট পশ্চিমে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নই তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। আধুনিক হাসপাতাল, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত।


প্রচারের ময়দানে তিনি শুধু প্রতিশ্রুতিতেই থেমে থাকেননি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, গ্রাম থেকে বাজার—সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে সমস্যার খোঁজ নিচ্ছেন বলেও জানান। তাঁর কথায়, “রাজনীতি মানে শুধু ভোট নয়, মানুষের পাশে থাকা। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।”
সভায় তিনি বিরোধীদেরও তীব্র আক্রমণ করেন। অভিযোগ করেন, বাইরের প্রার্থী চাপিয়ে দিয়ে এলাকার বাস্তব সমস্যার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বিরোধী দলের। তাঁর মতে, “যাঁরা এখানে থাকেন না, তাঁরা এলাকার উন্নয়ন কীভাবে বুঝবেন?” একই সঙ্গে স্থানীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের সমর্থনই তাঁর লড়াইয়ের মূল শক্তি।
ডায়মন্ড হারবার মডেলের উন্নয়নকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে সামিম আহমেদ জানান, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই মগরাহাট পশ্চিমে উন্নয়নের গতি বাড়ানো হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা—সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।


সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের বাইরে গিয়ে উন্নয়নকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন তৃণমূল প্রার্থী। ভোটের ময়দানে এই ‘ডেভেলপমেন্ট ন্যারেটিভ’ কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।







