দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে অশনি সংকেত। শনিবার দুপুরে আচমকা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল নোয়াপাড়া। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—শব্দটি নাকি এসেছে থানার ভিতর থেকেই। মুহূর্তে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা, আতঙ্কে ঘরছাড়া হন স্থানীয়রা। ভোটের আগে এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হঠাৎ বিকট শব্দের পরেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া। আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে স্প্লিন্টার এসে পড়েছে বলেও অভিযোগ। অনেকেই সেই টুকরো তুলে দেখান পুলিশকে। ঘটনার জেরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়ায়, বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ে পরিবারের সদস্যদের।


খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড। প্রাথমিকভাবে এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু হয়। কী কারণে বিস্ফোরণ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে থানার ভিতর থেকেই শব্দ এসেছে—এই অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ বাঁশফোড়ের বক্তব্য, বিস্ফোরণের পরই তিনি থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান। তাঁর অভিযোগ, আগাম সতর্কতা থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত। “আমাদের বাড়ি থানার একেবারে পাশে। বাচ্চারা থাকে এখানে—কিছু হলে দায় কে নিত?”—প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে প্রশাসনকে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে।


প্রসঙ্গত, আগামী ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ। এই আসনে বিজেপির প্রার্থী অর্জুন সিং এবং তৃণমূলের তরফে লড়ছেন তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। ভোটের ঠিক আগে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও দলের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল নোয়াপাড়ার এই বিস্ফোরণ। এখন নজর প্রশাসনের তদন্তে—কীভাবে, কেন ঘটল এই ঘটনা, তার উত্তরেই নির্ভর করছে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে।








