ভোট শেষ হতেই ফের জ্বালানির দামে আগুন—এ বার বাড়ল অটো-এলপিজি। ১ মে থেকে লিটারপিছু ₹৬.৪৪ বাড়ায় শহরের যাতায়াতে নতুন করে চাপ পড়ার আশঙ্কা। যাত্রীদের কপালে বাড়তি ভাড়া, আর চালকদের মনে দুশ্চিন্তা—এই দুইয়ের মাঝে অটো পরিষেবা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
শুক্রবার থেকে অটো চালানোর জন্য ব্যবহৃত এলপিজির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটারপিছু ₹৮৯.৪০। এর আগে যা ছিল ₹৮২.৯৬। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে এই জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে। জানুয়ারিতে যেখানে লিটারপিছু দাম ছিল ₹৫১.৬৫, তা ফেব্রুয়ারিতে গিয়ে হয় ₹৫৭.৬৮। মার্চে দু’দফায় বাড়তে বাড়তে তা পৌঁছয় ₹৭০.৬৮-এ। এপ্রিলের শুরুতে আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয় ₹৮২.৯৬—আর এখন মে মাসের শুরুতেই নতুন ধাক্কা।


যাত্রীদের চিন্তা বাড়ছে
নিত্যযাত্রীদের আশঙ্কা, এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে ভাড়ায়। অনেক রুটেই ইতিমধ্যেই সময়ভেদে ভাড়া বাড়ে—এ বার তা স্থায়ীভাবেই বেড়ে যেতে পারে। অফিসযাত্রী ঋষভ পালের কথায়, “একই রুটে সকাল-সন্ধ্যায় ভাড়ার পার্থক্য আছে। এখন যদি আরও বাড়ে, তা হলে অন্য উপায় ভাবতে হবে।”
চালকদেরও দুশ্চিন্তা
অন্যদিকে, অটোচালকদের একাংশ বলছেন—এই জ্বালানির খরচে গাড়ি নামানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ভাড়া বাড়ালে যাত্রী কমে যাওয়ার আশঙ্কা, আবার না বাড়ালে আয় টিকবে না। এক চালকের কথায়, “গ্যাসের দাম এত বেড়েছে যে চালানোই দায়। কিন্তু ভাড়া বাড়ালে যাত্রীও কমে যাবে।”
বড় ছবিটা কী বলছে?
এই মূল্যবৃদ্ধি আলাদা ঘটনা নয়। একইসঙ্গে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামও এক ধাক্কায় প্রায় ₹১০০০ বেড়ে কলকাতায় হয়েছে ₹৩২০২। ফলে পরিবহণ থেকে শুরু করে খাবারের দাম—সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। যদিও গৃহস্থালির ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রয়েছে ₹৯৩৯-এই।


সব মিলিয়ে, জ্বালানির লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি শহুরে যাতায়াতকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে—যার প্রভাব পড়বে প্রতিদিনের জীবনযাত্রায়।








