ভোটের উত্তাপে ফের তৎপর কেন্দ্রীয় সংস্থা। রবিবার সকালেই কলকাতার একাধিক এলাকায় হানা দিল ইডি। আনন্দপুর ও আলিপুরে ব্যবসায়ীদের বাড়ি-সহ মোট তিনটি জায়গায় চলছে তল্লাশি। সূত্রের খবর, বহুল আলোচিত ‘সোনা পাপ্পু’ মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান—যেখানে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদার।
তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জয়ের কাছ থেকেই উঠে এসেছে নতুন কয়েকটি নাম। সেই সূত্র ধরেই রবিবার সকালে CGO Complex থেকে একাধিক দল বেরিয়ে পড়ে, সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আনন্দপুরের একটি আবাসন এবং আলিপুরের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আর্থিক লেনদেনের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।


এই মামলায় ‘সোনা পাপ্পু’-র নাম প্রথম সামনে আসে বালিগঞ্জের গোলমালের ঘটনায়। যদিও তিনি এখনও অধরা। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আগেই পিস্তল ও নগদ অর্থ উদ্ধার করেছিল ইডি। এরপরই নজরে আসে জয় কামদারের নাম, যাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে কলকাতা পুলিশের এক ডেপুটি কমিশনারের দিকেও। অভিযোগ, জয়ের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন ছিল। সেই সূত্রেই তাঁর বাড়িতেও দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে জয়ের মোবাইল ফোন, যার ডেটা ঘেঁটে একাধিক লেনদেন ও যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে।
বর্তমানে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—এই লেনদেনগুলির সঙ্গে কোনও আর্থিক তছরুপ বা বেআইনি বিনিয়োগ জড়িত কি না। রবিবারের তল্লাশি সেই চক্রেরই আরও কয়েকটি স্তর উন্মোচনের চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।


এদিকে, ভোটের আবহে এই তৎপরতা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। প্রথম দফার ভোট শেষ, দ্বিতীয় দফার আগে রাজ্যে জোর প্রচার চলছে। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল টিএমসি। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাল্টা সাফাই দিয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, তদন্তকারী সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।
সব মিলিয়ে, ভোটের আবহে সোনা পাপ্পু মামলায় ইডির এই নতুন অভিযান শহরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।







