তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ আরও বাড়ল। সই জালিয়াতি, নিয়োগ দুর্নীতি এবং ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য— এই তিন পৃথক মামলায় টানা তিন দিন তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে চলেছেন তিনি। CID এবং ED-র ধারাবাহিক তলব ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পরপর তিন দিনে তিনটি পৃথক তদন্তে হাজিরার নির্দেশ পেয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে CID, অন্যদিকে ED— দুই সংস্থার নজরে থাকায় রাজনৈতিক ও আইনি চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
সূত্রের খবর, সই জালিয়াতি মামলায় রবিবার অভিষেককে ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে। এর পর সোমবার প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া আর একটি মামলায় অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে CID। ফলে টানা তিন দিন তদন্তকারী সংস্থার প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে তাঁকে।
এই আবহে সই জালিয়াতি মামলায় কুণাল ঘোষকেও তলব করেছে CID। রবিবার দুপুরে তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুণাল জানিয়েছেন, তদন্তে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং নির্ধারিত সময়েই উপস্থিত থাকবেন।
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই সই জালিয়াতি মামলায় একাধিকবার হাজিরা এড়ানোর অভিযোগ ওঠার পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে CID-র সামনে হাজির হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, তিনি কোনও দিন তদন্ত এড়িয়ে যাননি এবং আইন অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করে যাবেন। নতুন করে হাজিরার নির্দেশ পেলেও তিনি তা মেনে চলবেন বলেই জানান।
এদিকে একই মামলায় কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকেও নোটিস পাঠিয়েছে CID। ফলে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে ভোট প্রচারে উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে শিলিগুড়িতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন তাঁর রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই আরও কঠিন হতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।



