দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে ফের সক্রিয় ইডি। শনিবার ভোর থেকেই হাবড়া-তে একাধিক চাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। রেশন দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে এই হানা—ফলে ভোটের আবহে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ইডি-র একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে আসা দলগুলি কয়েকটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছয়। প্রথমদিকে দরজা না খোলায় বাইরে অপেক্ষা করতে হয় আধিকারিকদের। পরে দরজা খুললে শুরু হয় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ।


ইডি সূত্রের দাবি, আর্থিক তছরুপের অভিযোগেই এই অভিযান। তদন্তকারীদের সন্দেহ, কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ গম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার হয়েছে এবং সেই সূত্রে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। সেই আর্থিক লেনদেনের উৎস ও গতিপথ খতিয়ে দেখতেই এই তল্লাশি।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, সাগর সাহা, পার্থ সাহা ও রাজীব সাহা নামে তিন ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চলছে। নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাড়ির ভিতরে ঢুকে নথি ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছেন আধিকারিকরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনার শিকড় পৌঁছে যাচ্ছে ২০২১ সালের এক বড়সড় পাচারকাণ্ডে। বসিরহাটের ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে ১৭৫টি ট্রাকে চাল ও গম পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, যা সীমান্তরক্ষী বাহিনী আটক করে। সেই মামলার সূত্রেই গত মার্চে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। এবার সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় নতুন করে অভিযান।


রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মামলায় ইডি-র সক্রিয়তা বাড়ছে। কখনও তল্লাশি, কখনও সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা-মন্ত্রীকে তলব করা হয়েছে, যা নিয়ে চলছে জোর বিতর্ক।
প্রসঙ্গত, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, যার অন্তর্ভুক্ত হাবড়া এলাকাও। ফলে ভোটের মুখে এই তল্লাশি অভিযান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য বাড়ছে।








