কেরিয়ারের শেষ পর্ব নিয়েও যখন নানা আলোচনা, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে জবাব দিচ্ছেন কোহলি। আইপিএলের ১৯তম মরশুমেও তাঁর ব্যাট থামার নাম নেই। শুক্রবার আরসিবি-কে জয়ের মুখে পৌঁছে দেওয়া ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে শুধু ম্যাচের সেরাই হননি, গড়েছেন ইতিহাসও—একসঙ্গে দু’টি নজির।
গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে এই ইনিংসের মাঝেই কোহলি পৌঁছে যান এক অনন্য মাইলফলকে। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৮০০-র বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোর রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ৩০০ বা তার বেশি ছক্কা মারার কৃতিত্বও গড়েছেন তিনি—যা তাঁকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।


চলতি মরশুমের মাঝামাঝি সময়ে অবশ্য খুব একটা মসৃণ ছিল না কোহলির পথচলা। গোড়ালির চোটে এক ম্যাচে বাইরে থাকতে হয়েছিল। আবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স-এর বিরুদ্ধে তাঁর ধীরগতির হাফসেঞ্চুরি নিয়েও উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। অনেকেই তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, এমনকি ‘রিটায়ার্ড আউট’ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন কেউ কেউ।
কিন্তু সেই সব সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে নিজের ছন্দে ফিরে এসে দলকে একের পর এক ম্যাচ জেতাচ্ছেন কোহলি। শুক্রবারের ইনিংস তারই প্রমাণ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই সাফল্যের রাতেও নিজের কৃতিত্ব নিয়ে বাড়তি কিছু বলতে চাননি তিনি। বরং সতীর্থ দেবদত্ত পাড়িক্কলের অবদান তুলে ধরেছেন। বোলারদের পারফরম্যান্সকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি।


এই ইনিংসের সুবাদে অরেঞ্জ ক্যাপও এখন কোহলির দখলে। আর দল হিসেবে আরসিবিও রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে—অধিনায়ক রজত পাতিদার-এর নেতৃত্বে সাত ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের উপরের দিকেই অবস্থান।
সব মিলিয়ে, রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি দলগত সাফল্যকেই অগ্রাধিকার দিয়ে ‘কিং কোহলি’ আবারও প্রমাণ করলেন—তিনি শুধু পরিসংখ্যানের নায়ক নন, তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ দলনেতা।







