রান তাড়া করতে নামলে তিনি যেন অন্য এক ব্যাটার। তাই ক্রিকেটবিশ্ব তাঁকে ডাকে ‘চেজমাস্টার’ নামে। বুধবার রায়পুরে আবারও সেই পরিচয়কে আরও উজ্জ্বল করলেন বিরাট কোহলি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে শুধু দলকে জেতালেন না, এক ইনিংসেই গড়ে ফেললেন একাধিক ঐতিহাসিক নজির। আর সেই সঙ্গে আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন, লক্ষ্য যত বড়ই হোক, বিরাট থাকলে কোনও রানই নিরাপদ নয়।
১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিরাট খেললেন অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে আসে টি-২০ কেরিয়ারের দশম সেঞ্চুরি। এই কৃতিত্বের মালিক আর কোনও ভারতীয় ব্যাটার নন। বিশ্বের মাত্র চারজন ব্যাটারের টি-২০ ক্রিকেটে দশ বা তার বেশি সেঞ্চুরি রয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ক্রিস গেইল (২২), এরপর বাবর আজম (১৩) এবং ডেভিড ওয়ার্নার (১০)।
শুধু তাই নয়, আইপিএলের ইতিহাসেও এখন সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক বিরাট। তাঁর সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়াল ৯। পিছনে ফেললেন বাটলারকে, যার ঝুলিতে রয়েছে ৭টি আইপিএল শতরান।
বুধবার আরও একটি বড় মাইলফলক ছুঁয়েছেন কোহলি। টি-২০ ক্রিকেটে ১৪ হাজার রানের গণ্ডি পার করলেন তিনি, তাও দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে। মাত্র ৪০৯ ইনিংসে এই নজির গড়েছেন বিরাট। ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম এবং এখনও একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি এই ফরম্যাটে ১৪ হাজার রান করলেন।
রায়পুরেও গড়লেন নতুন ইতিহাস। তাঁর ১০৫ রানই এখন ওই মাঠে কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। পাশাপাশি আইপিএলে পরপর দু’টি ম্যাচে শূন্য করার পরে পরের ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকানো প্রথম ক্রিকেটারও হলেন বিরাট।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। বুধবারের ম্যাচ ছিল তাঁর আইপিএল কেরিয়ারের ২৭৯তম ম্যাচ। এর ফলে রোহিত শর্মা এবং মহেন্দ্র সিং ধোনিকে পিছনে ফেলে আইপিএলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের তালিকায় উঠে এলেন শীর্ষে।
ম্যাচ শেষে কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেও বিরাটের প্রশংসায় ভাসান। তাঁর কথায়, “১৯২ রানকে আমরা ভালো স্কোর বলেই মনে করেছিলাম। বোলিং ও ফিল্ডিংও খারাপ হয়নি। কিন্তু বিরাট ম্যাচটা আমাদের হাত থেকে বের করে নিয়ে গেল। রান তাড়া করার সময় ও যে অন্য পর্যায়ে পৌঁছে যায়, সেটা আবারও দেখাল।”
আসলে এ দিন শুধু একটা ম্যাচ জেতেননি বিরাট। আরও একবার নিজের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্পটাই লিখলেন নতুন করে।



