বিশ্বকাপের মঞ্চে শক্তিশালী বার্তা দিল আমেরিকা। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করল স্বাগতিকদের অন্যতম দল। ফোলারিন বালোগানের জোড়া গোল এবং ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের অনবদ্য পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচে প্রথমবার প্রয়োগ হওয়া VAR-এর নতুন নিয়মও ফুটবল মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
লস অ্যাঞ্জেলসের স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় মার্কিন দল। বল দখল, আক্রমণ তৈরি এবং গোলের সুযোগ—প্রতিটি বিভাগেই প্যারাগুয়ের উপর আধিপত্য বিস্তার করে মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় আমেরিকা। পুলিসিচের তীক্ষ্ণ আক্রমণ রুখতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ডামিয়ান বোবাদিলা। যদিও গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে নথিভুক্ত হয়, পুরো আক্রমণের নেপথ্যে ছিলেন মার্কিন অধিনায়কই।
৩১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ফোলারিন বালোগান। মাঝমাঠ থেকে মালিক টিলমানের নিখুঁত পাস ধরে গোল করতে ভুল করেননি তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবারও গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন বালোগান। সেই গোলের উৎসও ছিলেন পুলিসিচ।
দ্বিতীয়ার্ধে পুলিসিচকে তুলে নেওয়ার পরও আমেরিকার আক্রমণাত্মক ফুটবলে ভাটা পড়েনি। দ্রুত পাস, নিখুঁত মুভমেন্ট এবং বলের উপর নিয়ন্ত্রণ দেখে অনেকেই পচেত্তিনোর কৌশলের সঙ্গে আধুনিক ইউরোপীয় ফুটবলের তুলনা টানতে শুরু করেছেন।
৭৩ মিনিটে মরিসিও প্রাদোর গোলে ব্যবধান কিছুটা কমায় প্যারাগুয়ে। তবে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে জিওভানি রেইনা অসাধারণ ট্রিভেলা শটে গোল করে ৪-১ ব্যবধান নিশ্চিত করেন। মার্কিন কিংবদন্তি ফুটবলার ক্লদিও রেইনার ছেলে জিওভানির এই গোল দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
ম্যাচের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাঠে উপস্থিত থাকতে না পারলেও কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলে দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বলে জানা যায়। মাঠে নেমে সেই আস্থার মর্যাদাই রাখলেন পুলিসিচরা।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে VAR প্রযুক্তির নতুন ব্যবহারে। আমেরিকার ডিফেন্ডার টিম রিমকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরে VAR পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি ফাউল করেননি। বরং প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন রেফারিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর রিমের কার্ড বাতিল করে আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ‘Mistaken Identity’ বা ভুল সনাক্তকরণ সংশোধনের এই নিয়ম প্রথমবার বিশ্বকাপে প্রয়োগ হওয়ায় তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দাপুটে জয়, আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং প্রযুক্তির নতুন প্রয়োগ—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিল আমেরিকা। এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে টুর্নামেন্টে তারা যে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই যায়।



