আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল। নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ব্যাটার কেন উইলিয়ামসন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন। ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্ল্যাকক্যাপস জার্সিকে বিদায় জানালেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তে আবেগপ্রবণ ক্রিকেট বিশ্ব।
২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল উইলিয়ামসনের। তারপর থেকে ধীরে ধীরে তিনি শুধু দলের ভরসাযোগ্য ব্যাটারই নন, দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক এবং আধুনিক ক্রিকেটের সেরা ব্যাটারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
নিজের কেরিয়ারে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক রান সংগ্রহের নজির গড়েছেন উইলিয়ামসন। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-২০— তিন ফরম্যাটেই তিনি দলের সাফল্যের অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন। শান্ত স্বভাব, নিখুঁত টেকনিক এবং চাপের মুহূর্তে অসাধারণ নেতৃত্ব তাঁকে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে।
গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ই অনেকের ধারণা ছিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সম্পূর্ণ অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়তো খুব দূরে নয়। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল।
অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে উইলিয়ামসন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর মনে হয়েছে, এখনই সঠিক সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর। নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
আবেগঘন বার্তায় কিউই তারকা বলেন, দেশের জার্সি গায়ে খেলতে পারাটা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। পাশাপাশি তিনি বিশ্বাস করেন, নিউজিল্যান্ড দলের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং আগামী দিনে এই দল আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।
উইলিয়ামসনের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। ২০২১ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পাশাপাশি একাধিক আইসিসি টুর্নামেন্টে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন প্রতিপক্ষ ক্রিকেটাররাও।
পরিসংখ্যানের নিরিখে তিনি যতটা সফল, তার থেকেও বেশি সম্মান অর্জন করেছেন নিজের ব্যক্তিত্ব ও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার জন্য। তাই তাঁর অবসর শুধু নিউজিল্যান্ড নয়, গোটা ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই এক আবেগঘন মুহূর্ত।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ছাপ রেখে যাওয়া কেন উইলিয়ামসন বিদায় নিলেও, তাঁর নাম নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।



