ভারতীয় ক্রীড়া জগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন দেশের অন্যতম সেরা শুটার ও খ্যাতনামা কোচ যশপল রানা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। জাতীয় দলের প্রাক্তন কোচ এবং একাধিক আন্তর্জাতিক মানের শুটারের মেন্টর হিসেবে পরিচিত রানা শুক্রবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এনআরএআই) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি প্যারিস অলিম্পিকে জোড়া পদকজয়ী মনু ভাখরের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ফলে তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় শুটিং মহলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মিউনিখ শুটিং বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরার সময় বিমানে প্রথমবার গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন রানা। পরে পরীক্ষা করে হৃদ্রোগ ধরা পড়ে এবং দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসকেরা একটি স্টেন্টও বসিয়েছিলেন এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছিল।
চিকিৎসকদের আশা ছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু শুক্রবার সকালে আচমকাই ফের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তিনি। সব চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
যশপল রানার ভাই জানিয়েছেন, মিউনিখে থাকাকালীন প্রথমে বুকে ব্যথাকে সাধারণ গ্যাসের সমস্যা বলে মনে করেছিলেন তিনি। পরে দেশে ফেরার বিমানে একই ধরনের অস্বস্তি বাড়লে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে হার মানতে হল ভারতীয় শুটিংয়ের এই কিংবদন্তিকে।
খেলোয়াড় হিসেবে যশপল রানার সাফল্যের তালিকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯৯৪ সালে জুনিয়র বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি। এরপর এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একের পর এক পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন।
বিশেষ করে ২০০৬ সালের দোহা এশিয়ান গেমসে তাঁর তিনটি সোনাজয় ভারতীয় শুটিংয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে মোট ১৫টি পদক জিতেছিলেন তিনি, যার মধ্যে ৯টিই ছিল সোনা।
অবসরের পর কোচ হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংসেও সমান সফল ছিলেন রানা। তাঁর হাত ধরেই উঠে এসেছেন সৌরভ চৌধরি, অনীশ ভানওয়ালা, চিঙ্কি যাদব এবং মনু ভাখরের মতো একাধিক তারকা শুটার। ভারতীয় শুটিংয়ের উচ্চ-প্রদর্শন কোচ হিসেবে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।
অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত যশপল রানা পরে কোচ হিসেবে দ্রোণাচার্য পুরস্কারও পান। উত্তরাখণ্ডের এই কৃতি সন্তান শুধু একজন সফল শুটারই নন, ভারতীয় শুটিংয়ের এক প্রজন্মের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় ক্রীড়া মহল এক অসাধারণ খেলোয়াড়, কোচ এবং অনুপ্রেরণার উৎসকে হারাল।



