ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের সরকারি বিবৃতি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই বিবৃতিতে নিহত নাবিকদের প্রতি কোনও সমবেদনা বা দুঃখপ্রকাশ না থাকায় সরব হয়েছেন শ্যামপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। ‘সংবেদনহীন আমেরিকা’ প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতকে বন্ধু দাবি করা একটি দেশ কীভাবে এমন অবস্থান নিতে পারে?
সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে হিরণ চট্টোপাধ্যায় মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলপথে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত মার্কিন বিবৃতিতে নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানের কথা বলা হলেও ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির বিষয়টি কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। আর সেটাই সবচেয়ে উদ্বেগের।
মার্কিন বিদেশ দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে মার্কো রুবিও ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের মধ্যে হওয়া টেলিফোন আলোচনার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে মূলত হরমুজ প্রণালীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে হিরণের প্রশ্ন, কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ যদি নির্দেশ অমান্য করেও থাকে, তবে তাকে থামানোর জন্য প্রাণঘাতী পদক্ষেপই কি একমাত্র উপায় ছিল? তাঁর মতে, জাহাজের ইঞ্জিন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল করার মতো বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করা যেত, যাতে নিরীহ নাবিকদের জীবন রক্ষা পায়।
বিজেপি বিধায়কের দাবি, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিক কর্মরত। ফলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে ভারতীয়দের নিরাপত্তা আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে ভারতীয় নাবিকদের জীবনও কি একইভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে?
হিরণ আরও জানিয়েছেন, ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় দেশের উদ্বেগ, অসন্তোষ এবং ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন বলেই তিনি আশা করছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভারতীয় নাগরিকদের প্রাণহানির মতো ঘটনায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্নও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আর সেই কারণেই সংবেদনহীন আমেরিকা নিয়ে হিরণের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।



