জাল লটারি কেলেঙ্কারিতে বড় সাফল্য, কিংপিন গ্রেফতার; বাড়ি থেকে উদ্ধার ১০ লক্ষাধিক টাকা

পুরুলিয়ায় জাল লটারি কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল নিতুড়িয়া থানার পুলিশ। বাড়ি থেকে উদ্ধার ১০.৪২ লক্ষ টাকা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জাল লটারি কেলেঙ্কারির তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই গা-ঢাকা দিয়ে থাকা চক্রের মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে নিতুড়িয়া থানার পুলিশ। অভিযানের সময় উদ্ধার হয়েছে নগদ ১০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা, যা এই বেআইনি কারবারের আর্থিক পরিধি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জাল লটারির ব্যবসা চলার অভিযোগ উঠছিল। একাধিক অভিযানের পরও পুরোপুরি এই চক্র ভাঙা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পর তদন্তে গতি আসে এবং শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে চক্রের অন্যতম মূল হোতা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শক্তি যাদব এবং গণেশ সাউ। তাঁদের বাড়ি যথাক্রমে নিতুড়িয়া থানার আমডাঙা ও রাণীপুর গ্রামে। তদন্তকারীদের দাবি, শক্তি যাদব এলাকায় জাল লটারি সরবরাহের কাজ করতেন, আর গণেশ সাউ ছিলেন গোটা চক্রের প্রধান সরবরাহকারী।

প্রায় এক বছর ধরে আত্মগোপন করে থাকা গণেশ সাউকে রবিবার রাতে গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

ধৃতদের রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের মতে, এই সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের আরও সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল জাল লটারি বিক্রির অভিযোগে দুই বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময় প্রচুর জাল লটারি এবং নগদ ২২ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত পলাতক ছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, বৈধ কাগজের লটারির হুবহু নকল তৈরি করে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হত। এতটাই নিখুঁতভাবে এই লটারি ছাপা হত যে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে আসল-নকল বোঝা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ত।

তদন্তকারীদের দাবি, বৈধ লটারি বিক্রির তুলনায় জাল লটারিতে বিক্রেতাদের কমিশনও ছিল অনেক বেশি। সেই কারণেই দ্রুত গ্রামীণ ও ব্লক স্তরের বাজারে এই কারবার ছড়িয়ে পড়ে। মূল শহরগুলিতে নজরদারি বাড়ায় অভিযুক্তরা গ্রামাঞ্চলকেই নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়েছিল।

এর আগে এই ধরনের জাল লটারি চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ এবং সিআইডি একাধিক অভিযান চালিয়েছে। সেই তদন্তে ঝাড়খণ্ডের যোগসূত্রও সামনে এসেছিল। বর্তমান মামলাতেও আন্তঃরাজ্য সংযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

জাল লটারির এই ব্যবসায় শুধু সাধারণ মানুষ প্রতারিত হননি, ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজ্যের রাজস্বও। তাই এই চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে তদন্ত আরও গভীর করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। আগামী দিনে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর