আয়ুষ্মান কার্ডে কী কী চিকিৎসা সম্পূর্ণ ফ্রি? কোন খরচ নিজের পকেট থেকে দিতে হবে জানেন?

আয়ুষ্মান কার্ডে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিললেও সব পরিষেবা ফ্রি নয়। কোন চিকিৎসা কভার হয় আর কোন খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে, জেনে নিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PM-JAY) বর্তমানে দেশের বৃহত্তম স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পগুলির অন্যতম। এই প্রকল্পের আওতায় থাকা পরিবারগুলি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পান। তবে অনেকেরই ধারণা, আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেই সব ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। বাস্তবে কিন্তু কিছু পরিষেবা প্রকল্পের আওতায় থাকলেও, কিছু খরচ রোগীকেই বহন করতে হয়।

আয়ুষ্মান কার্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করানোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ ব্যয় সরকার বহন করে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি অনুমোদিত বেসরকারি হাসপাতালেও এই সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে গুরুতর অসুস্থতার সময় রোগীর পরিবারের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে।

প্রকল্পের আওতায় সাধারণত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচ, অস্ত্রোপচার, আইসিইউ পরিষেবা, জরুরি চিকিৎসা, চিকিৎসকের ফি, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়াও রক্ত, অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সাপোর্ট, হাসপাতালের বেড চার্জ এবং রোগীর খাবারের খরচও কভার করা হয়।

চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং অন্যান্য ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ফলো-আপ চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করা হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনি রোগ, স্নায়ুরোগ, অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচার, মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা-সহ বহু জটিল রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত হাজার হাজার চিকিৎসা প্যাকেজ ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।

তবে আয়ুষ্মান কার্ড থাকলেও সব পরিষেবা বিনামূল্যে পাওয়া যায় না। সাধারণ আউটডোর (OPD) চিকিৎসা, সর্দি-কাশি বা জ্বরের মতো ছোটখাটো অসুস্থতার চিকিৎসা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে করানো অনেক পরীক্ষার খরচ এই প্রকল্পে ধরা হয় না।

এছাড়া কসমেটিক সার্জারি, সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসা, ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা, আইভিএফ এবং কিছু সাধারণ ডেন্টাল ট্রিটমেন্টও আয়ুষ্মান প্রকল্পের আওতার বাইরে। এই ধরনের চিকিৎসার খরচ রোগীকেই নিজে বহন করতে হয়।

চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত যে হাসপাতালটি আয়ুষ্মান প্রকল্পভুক্ত কিনা এবং সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসা প্রকল্পের প্যাকেজ তালিকায় রয়েছে কিনা। প্রয়োজনে হাসপাতালের আয়ুষ্মান হেল্পডেস্ক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্যখাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের যুগে আয়ুষ্মান কার্ড নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রকল্পের সুবিধা পুরোপুরি পেতে হলে কী কী কভার করা হয় এবং কোন খরচ নিজের পকেট থেকে দিতে হবে, সেই বিষয়ে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর