আত্মহত্যায় প্ররোচনার পুরনো মামলার তদন্তে নতুন মোড়। ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ আটক করেছে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি মইদুল ইসলামকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় আগের দিনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২২ সালের একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে মইদুল ইসলামের নাম রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুরনো অভিযোগগুলির পুনর্মূল্যায়ন শুরু হওয়ায় তদন্তে গতি এসেছে। সেই সূত্র ধরেই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
ডায়মন্ড হারবারের গুরুদাস নগরের বাসিন্দা মইদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই জেলার রাজনৈতিক এবং শিক্ষা মহলে পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি সিপিএমের সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং দ্রুত দলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে জায়গা করে নেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, ডায়মন্ড হারবার থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে মইদুলের রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও গভীর হয়। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতির দায়িত্বও পান।
তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়ছিল। এর আগেও সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়েছে এবং তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়েছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, ২০২২ সালের আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলাটি ফের খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং তথ্য সংগ্রহের পর তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আটক করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, বাইকে করে অন্যত্র যাওয়ার সময় হটুগঞ্জ এলাকা থেকে মইদুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে একটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ছবি। সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর সঙ্গেই দেখা যায় মইদুল ইসলামকে। এছাড়াও সম্প্রতি কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনেও তাঁর উপস্থিতি নজরে এসেছিল।
মইদুল ইসলামের আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, তদন্তের প্রয়োজনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এখন তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং এই মামলার পরবর্তী আইনি গতিপ্রকৃতি কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।



