সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ওএমআর শিট নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ওএমআর কারচুপির অভিযোগের অবসান ঘটাতেই এবার পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ওএমআর শিটের কপি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার নন্দীগ্রামের ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা যে উত্তর লিখবেন, সেই ওএমআর শিট তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ফলে পরীক্ষার পর নিজের উত্তরপত্র সম্পর্কে সরাসরি ধারণা রাখতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।
শুধু ওএমআর শিট নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব আরও বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং কারচুপির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যেই একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মাসে শিয়ালদহের একটি রোজগার মেলা থেকে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটের কার্বন কপি দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের অন্যতম উৎস ছিল এই অস্বচ্ছতা।
সেই ঘোষণাকেই বাস্তবায়িত করে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হল, পরীক্ষার পরে ওএমআর শিট পরীক্ষার্থীদের কাছেই থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে নম্বর পরিবর্তন বা উত্তরপত্রে কারচুপির অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করা অনেক সহজ হবে।
শিক্ষক নিয়োগ এবং পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত একাধিক মামলায় ওএমআর শিটে কারচুপির অভিযোগ আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তদন্তে সেই সংক্রান্ত নানা তথ্যও সামনে এসেছে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সরকারের দাবি, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ওএমআর শিট পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলিতে আস্থা বাড়াবে এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক অনেকটাই কমাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।



