পূর্ব মেদিনীপুকে রাজ্যের অন্যতম উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক বড় প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিঘাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি মন্দারমণি, তাজপুর, হলদিয়া এবং সম্ভাব্য গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়েও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন তিনি।
রবিবার দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্ব মেদিনীপুরে পর্যটন, শিল্প, কৃষি এবং সামুদ্রিক সম্পদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার হয়নি। আগামী দিনে সেই ঘাটতি পূরণ করে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে নজর দেবে সরকার।
দিঘাকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, শুধু দিঘা নয়, মন্দারমণি এবং তাজপুরকেও আধুনিক পরিকাঠামোর মাধ্যমে নতুনভাবে সাজানো হবে। লক্ষ্য একটাই— আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে এই সমুদ্র উপকূলকে প্রতিষ্ঠা করা।
পর্যটন পরিকাঠামোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার দুর্বল অবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান পরিকাঠামো পর্যটকদের চাপ সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই ১০০ শয্যার উন্নত হাসপাতাল, আইসিইউ বেড বৃদ্ধি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং উদ্ধার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সমুদ্রসৈকতে কর্মরত নুলিয়াদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়েও প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু পর্যটন নয়, শিল্পোন্নয়নেও জোর দিচ্ছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, হলদিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বন্দরের নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজিং, বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্প প্রকল্প আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠকে।
বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তাজপুর সংলগ্ন দাদনপাত্রপাড়ায় প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প। শুভেন্দুর মতে, এই বন্দর বাস্তবায়িত হলে শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সরকারের প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই সেখানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নয়াচরে মৎস্য হাব তৈরির পরিকল্পনাও পুনরুজ্জীবিত করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, মৎস্য শিল্প, পর্যটন এবং বন্দর— এই তিন খাতকে কেন্দ্র করেই পূর্ব মেদিনীপুরের অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিঘায় পর্যটকদের কাছ থেকে যে ১০ টাকা করে উন্নয়ন ফি নেওয়া হয়, তা আগামী ১ জুলাই থেকে তুলে দেওয়া হবে। তাঁর মতে, পর্যটকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে উন্নয়ন করা সরকারের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
দিঘা থেকে হলদিয়া— সমুদ্র উপকূল জুড়ে পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিল্প ও বন্দর পরিকাঠামোর উন্নয়নের যে রূপরেখা মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে পূর্ব মেদিনীপুরের অর্থনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।



