নজরবন্দি ব্যুরো: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের পর এখনও উদ্বেগ কাটছে না ভারতীয়দের নিয়ে। শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নেপালে ২৮৭ জন ভারতীয় এখনও নিখোঁজ, যদিও এখনও পর্যন্ত ৮৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যেই রাসুয়া জেলার দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ প্রযুক্তিগত দল পাঠিয়েছে দিল্লি।
বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে রাস্তা, সেতু, বসতি এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছনো নিয়ে।
শনিবারই রাসুয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে আরও চার ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের নাম রিপু কুমার, চানেশ্বর নারজ়ারি, কৃপা শঙ্কর এবং মহম্মদ মিনহাজুদ্দিন। তাঁদের প্রথমে কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেখান থেকে ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
এই চার জনকে উদ্ধারের পর নেপাল থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় নাগরিকের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮। তবে নিখোঁজের তালিকায় এখনও ২৮৭ জন ভারতীয় রয়েছেন। পাশাপাশি, ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিন্তু অন্য দেশের নাগরিক এমন আরও ১২৮ জনেরও খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
উদ্ধারকাজে নেপালকে সহায়তা করতে ভারত ইতিমধ্যেই বিশেষ প্রযুক্তিগত দল পাঠিয়েছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে একটি রেকি টিম কাঠমান্ডু পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। সেই দলের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম-সহ আরও একটি বিশেষ সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছচ্ছে।
শুধু উদ্ধার নয়, বিপর্যয়ে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করতেও ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। ছ’টি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল কাঠমান্ডু যাচ্ছে। ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করে অজ্ঞাত মৃতদেহ শনাক্তকরণে নেপালি কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করবে এই দলগুলি।
এ দিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে দিল্লি। চিনের দিক থেকে ১২০ জন ভারতীয় নেপালে প্রবেশ করেছেন। তাঁদেরও নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে নেপালের দুর্গত এলাকায় বুধবার থেকে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে চলেছে ভারত। এখনও পর্যন্ত মোট ৫৭.৬ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের অবস্থান নিয়েও শনিবার স্পষ্টতা এসেছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিসির খানাল জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করা হয়নি। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা নেওয়া হবে। ভারতের প্রযুক্তিগত ও উদ্ধার-সহায়তাও সেই প্রক্রিয়ার অংশ।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, বিপর্যয়ের পর এখনও পর্যন্ত ৬২৬টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং প্রায় ২,৪০০ জনের কোনও খোঁজ নেই। প্রবল বৃষ্টি, দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা উদ্ধারকারীদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের খোঁজ ও উদ্ধারে দিল্লির তৎপরতা আরও বাড়ছে। একদিকে নিখোঁজ ২৮৭ ভারতীয়কে খুঁজে বের করার চেষ্টা, অন্যদিকে সুড়ঙ্গ ও দুর্গম এলাকায় প্রযুক্তিগত সহায়তা—সব মিলিয়ে নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে এখন উদ্ধার অভিযানের পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে দুই দেশই।



