দিঘার (Digha) জগন্নাথ মন্দিরে (Jagannath Temple) এ বছরের রথযাত্রাকে ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। গতবার যেখানে শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের রথের রশি টানার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এ বছর সাধারণ ভক্তদেরও সেই সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, রথযাত্রাকে আরও সর্বজনীন করে তোলা এবং তথাকথিত ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ থেকে উৎসবকে মুক্ত রাখা।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘার রথযাত্রার আগে জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। গত ২৯ জুন মন্দির চত্বরে অস্থায়ী বেদিতে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা-র স্নানযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। এখন রথযাত্রার আগে তিনটি রথের কাঠামো ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে ট্রায়াল বা মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই মন্দিরের উত্তর দিকে রাখা তিনটি রথ নিয়ে মহড়া হবে। সেই সময় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরীর (Puri) মতো প্রতি বছর নতুন রথ তৈরি না হলেও, এ বছর তিনটি রথ নতুন করে রং করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের রথযাত্রা রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথমবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। গত বছরের অনুষ্ঠানে ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, সাধারণ ভক্তদের রথের রশি স্পর্শ করারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার প্রশাসন উৎসবকে আরও জনমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের দাবি, রথযাত্রায় অংশ নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে রথের রশি টানতে পারেন, সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দিঘায় বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা পুলিশ।
পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur)-এর জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার (Niranjan Kumar) জানিয়েছেন, দিঘার রথযাত্রা যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে আসা ভক্তদের যেন কোনও অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, রামনগর (Ramnagar)-এর বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল (Chandrasekhar Mondal) বলেন, অতীতে সাধারণ মানুষকে রথের কাছে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করে প্রত্যেক ভক্ত যাতে রথের রশি স্পর্শ করতে এবং রথ টানার অংশীদার হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এ বছরের দিঘার রথযাত্রাকে আরও সর্বজনীন ও ভক্তকেন্দ্রিক করে তুলতেই প্রশাসনের এই নতুন পরিকল্পনা। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ—এই তিন দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।



