প্রায় টানা তিন দিন তদন্তকারী সংস্থার জেরার মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে সিআইডি, অন্যদিকে ইডি—দু’টি পৃথক মামলায় পরপর তলব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে সহযোগিতার বার্তাই দিলেন অভিষেক।
১৪ জুন বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় সিআইডির ডাকে ভবানী ভবনে হাজিরা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরদিন, অর্থাৎ সোমবার, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আবার মঙ্গলবার লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে করা বক্তব্য এবং ডিজে বাজানো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে ডেকেছে সিআইডি।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারের জিজ্ঞাসাবাদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নতালিকার ভিত্তিতে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। প্রায় ১২ পাতার সেই প্রশ্নমালার প্রতিটি বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। ইডি সূত্রের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর উত্তর নিয়ে তদন্তকারীরা সন্তুষ্ট।
সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সম্পূর্ণ রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সেই তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার অভিষেকের দেওয়া বয়ানের সঙ্গে অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনও অসঙ্গতি বা বয়ানে গরমিল ধরা পড়লে চলতি সপ্তাহেই তাঁকে ফের ডাকা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক। তিনি জানান, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং যে সমস্ত প্রশ্ন করা হয়েছে, তার যথাযথ উত্তর দিয়েছেন। তাঁর কথায়, তদন্তকারী সংস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য তিনি তুলে ধরেছেন।
ভবিষ্যতেও তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, অতীতে যতবার ডাকা হয়েছে ততবারই হাজিরা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে হাজির হবেন, যদি আগে থেকে নির্ধারিত কোনও কর্মসূচি না থাকে।
ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সোমবার রাতে সরাসরি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সেখানে পৌঁছন তিনি। কিছুক্ষণ বৈঠকের পর সেখান থেকে বেরিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
পরপর তিন দিনের তলব এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়লেও, আপাতত তদন্তে সহযোগিতার অবস্থানেই রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন নজর তদন্তকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।



