বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি, এবার ক্রীড়ামন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন অভিষেক ডালমিয়া

ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-কে বিশেষ হেল্পলাইন চালুর আবেদন অভিষেক ডালমিয়ার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবার সরব হলেন প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-কে চিঠি লিখে তিনি ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে একটি স্বাধীন ‘স্পোর্টস ইন্টিগ্রিটি ও অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

অভিষেক ডালমিয়ার দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রে খেলোয়াড় নির্বাচন, দলে সুযোগ পাওয়া কিংবা অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হওয়া নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। বহু ক্ষেত্রে প্রতিভা ও পারফরম্যান্সের বদলে অর্থ বা প্রভাবের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা ক্রীড়া ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

চিঠিতে তিনি একটি স্বনামধন্য ক্রীড়া সংস্থার এক কমিটি সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ, খেলোয়াড়কে দলে সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। এমনকি অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত নথি ও ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের তথ্য সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে আনা হলেও সেই অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হয়নি বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে।

প্রাক্তন সিএবি সভাপতির বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তেই প্রমাণিত হবে। কিন্তু অভিযোগ ওঠার পর নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ক্রীড়া সংস্থা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর মানুষের আস্থা ক্রমশ কমতে থাকবে।

এই পরিস্থিতিতে তিনি রাজ্য সরকারের কাছে একটি গোপনীয় স্পোর্টস ইন্টিগ্রিটি ও অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন চালুর আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্রীড়াবিদ, অভিভাবক, কোচ, কর্মকর্তা, হুইসল-ব্লোয়ার এবং সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা এবং তাঁকে প্রতিহিংসামূলক আচরণ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি।

নিজের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন অভিষেক ডালমিয়া। সিএবি-র দায়িত্বে থাকাকালীন নিয়ম লঙ্ঘন এবং ভুয়ো নথি ব্যবহারের অভিযোগে প্রায় ৫০ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, সেই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত স্থানীয় ক্রিকেটারদের প্রাপ্য সুযোগ নিশ্চিত করা।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া প্রশাসনের অধিকাংশ ব্যক্তি সততার সঙ্গে কাজ করলেও কিছু মানুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ড গোটা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি নষ্ট করে দেয়। এর ফলে যোগ্য ক্রীড়াবিদরা বঞ্চিত হন এবং তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে যায়।

পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রীড়া মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এসেছে। সেই ঐতিহ্য বজায় রাখতে হলে খেলোয়াড়দের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিভা ও পারফরম্যান্সই হবে সুযোগ পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি। দুর্নীতি, প্রভাব বা আর্থিক লেনদেন নয়—স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতেই গড়ে উঠুক রাজ্যের ক্রীড়া সংস্কৃতি, ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে চিঠিতে মূলত সেই বার্তাই দিয়েছেন অভিষেক ডালমিয়া।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর