রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কার্যালয়ে বেডরুম বা অতিথি থাকার ঘর পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি মুখ খুললেন তৃণমূলের প্রাক্তন আইটি সেল প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য। দলীয় কার্যালয়ে বেডরুম থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানালেন, এর পিছনে রয়েছে সাংগঠনিক প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে বিশ্রামকক্ষ বা শয়নকক্ষের অস্তিত্ব সামনে এসেছে। সেই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন দেবাংশু।
তাঁর বক্তব্য, জেলা বা ব্লক স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দূর-দূরান্ত থেকে বহু কর্মী, সমর্থক এবং সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসেন। অনেক সময় তাঁদের রাত কাটানোর প্রয়োজন হয়। সেই কারণেই বহু দলীয় কার্যালয়ে থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়।
দেবাংশু লিখেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য বাইরে থেকে আসা কর্মীদের যাতে হোটেলে থাকতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই অনেক অফিসে বেডরুম এবং স্নানঘরের ব্যবস্থা থাকে। তাঁর দাবি, এটি কোনও নতুন বা অস্বাভাবিক বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জেলার সংগঠনগুলিতে এই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। দেবাংশুর দাবি, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কাজে গিয়ে তিনি একাধিক দলীয় কার্যালয়ে থেকেছেন। শুধু শোওয়ার ঘর নয়, অনেক জায়গায় রান্নাঘরের ব্যবস্থাও রয়েছে, যেখানে কর্মী ও নেতাদের খাবারের আয়োজন করা হয়।
তবে একইসঙ্গে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দলীয় কার্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনা করা উচিত নয়। কোনও স্কুল বা কলেজে যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেডরুম পাওয়া যায় এবং তা নির্দিষ্ট ‘সিক রুম’ বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহৃত বিশ্রামকক্ষ না হয়, তাহলে সেই বিষয়টির যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনভিপ্রেত সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে দেবাংশুর পোস্টের নীচে অনেকেই সেই বিষয়গুলির প্রসঙ্গ তোলেন। ফলে দলীয় কার্যালয়ের অবকাঠামো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় পরিকাঠামোগত সুবিধা কতটা প্রয়োজন এবং তার সীমারেখা কোথায় হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা চলছেই। সেই বিতর্কের মাঝেই দেবাংশুর এই ব্যাখ্যা রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।




