প্রথম দফার ভোট মিটতেই যখন রাজনৈতিক দলগুলির হিসেব-নিকেশ শুরু, ঠিক তখনই চমকে দিলেন বায়রন বিশ্বাসে। ভোররাতে প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করলেন—নিজের আসন সাগরদিঘিতেই তিনি হারছেন। শুধু তাই নয়, একাধিক তৃণমূল প্রার্থীর হার নিয়েও আগাম মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন তিনি।
ক্যামেরার সামনে বায়রনের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি হারছি। জঙ্গিপুরে জাকির সাহেব হারছেন, সামশেরগঞ্জে নূর আলম হারছেন, ফরাক্কাতেও হার হবে।” যদিও রাজ্যের সামগ্রিক ফল নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।


এই বিস্ফোরক মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে স্ট্রংরুমের সিসিটিভি ও আলো মাঝরাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বায়রন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি ব্যবস্থা অচল ছিল, যা কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়।
তিনি দাবি করেন, প্রায় ২০ মিনিট ধরে আলো বন্ধ ছিল। প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে তাঁর মন্তব্য, “একটা জেনারেটর চালু হতে কতক্ষণ লাগে? এটা সাধারণ ত্রুটি নয়।” এমনকি স্ট্রংরুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের উদ্দেশে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি চড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, কোনও ‘চক্রান্ত’ চলছে কি না।
বায়রনের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল প্রার্থীদের হারানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “এই সবকিছুই সাজানো খেলা।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।


অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর কলেজের স্ট্রংরুম নিয়েও বিতর্ক দানা বাঁধে। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত অভিযোগ করেন, অনুমতি ছাড়াই বহু মানুষ ভিতরে ঢুকছেন এবং শাসকদলের কর্মীদের অবাধ যাতায়াত চলছে। তিনি ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ভোটের ফল ঘোষণার আগেই স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বায়রনের এই মন্তব্য শুধু জল্পনা নয়, রাজনৈতিক অঙ্ককেও নতুন করে নাড়িয়ে দিল।







