ফলতায় ইভিএম বিতর্কে কড়া কমিশন, পুনর্নির্বাচন নিয়ে কী বলল কমিশন

ইভিএমে টেপ লাগানোর অভিযোগে ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ইঙ্গিত কমিশনের, অবজারভারদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতা কেন্দ্র ঘিরে ইভিএম কারচুপির অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচন, এমনকি প্রয়োজন পড়লে গোটা বিধানসভা কেন্দ্রেই ফের ভোটের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে—স্পষ্ট বার্তা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল-এর। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে অবজারভারদের রিপোর্টের উপর।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্র থেকে অভিযোগ ওঠে, কয়েকটি ইভিএমে নির্দিষ্ট বোতামে সেলোটেপ লাগিয়ে সেটিকে অকার্যকর করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে না পারেন। এই অভিযোগ করেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর সরাসরি আঘাত।

অভিযোগ সামনে আসতেই দ্রুত রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন। এ প্রসঙ্গে মনোজ আগরওয়াল জানান, যেখানে যেখানে ইভিএমে টেপ লাগানোর প্রমাণ মিলবে, সেই সব বুথে পুনর্নির্বাচন করা হবে। যদি এই ধরনের ঘটনা একাধিক বুথে ঘটে থাকে, তাহলে গোটা ফলতা কেন্দ্রেই ফের ভোট হতে পারে।

তবে কমিশন সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত একটি বুথেই এমন অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি কতটা বিস্তৃত, তা স্পষ্ট হবে পর্যবেক্ষকদের বিস্তারিত রিপোর্ট হাতে এলেই।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

উল্লেখযোগ্যভাবে, ফলতা কেন্দ্র তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান-এর রাজনৈতিক ঘাঁটি। ভোটের আগেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা সেখানে রুটমার্চও করেন।

সব মিলিয়ে, ফলতায় ইভিএম বিতর্ক নতুন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে—পুনর্নির্বাচন কতটা বিস্তৃত হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত