গণনার শেষ লগ্নে ভবানীপুর কেন্দ্র ঘিরে চরম উত্তেজনা—গণনাকেন্দ্রেই নিজের উপর হামলার অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সিআরপিএফ ও বিজেপি কর্মীরা তাঁকে ধাক্কা দেন এবং তৃণমূলের প্রতিনিধিদের গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ‘অন্যায় জয়’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
সোমবার বিকেলে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হল-এ অবস্থিত গণনাকেন্দ্রে যান মমতা এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি।


এর আগে তাঁর মুখ্য নির্বাচনী এজেন্ট বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও জোর করে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, “গুন্ডামি করে গণনাকেন্দ্র দখল করা হয়েছে, আমাদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মমতা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “সিআরপিএফ আর বিজেপি—দু’জনেই। আমাদের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ১০০টা সিট লুট হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির কমিশন হয়ে গেছে।” তিনি জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন।
এই ঘটনার মধ্যেই ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলও ছিল অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। কমিশনের আপডেট অনুযায়ী, ১৬ রাউন্ড শেষে শুভেন্দু অধিকারী প্রায় ৫৩,৯৩২ ভোট পেয়ে এগিয়ে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত ভোট ৫৩,৩৬৯—মাত্র ৫৬৩ ভোটের ব্যবধান।


সব মিলিয়ে, ভোটগণনার শেষ মুহূর্তে এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। এখন নজর কমিশনের পদক্ষেপ ও চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।







