পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পালাবদল। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ২০৭টি আসনে জয় তুলে নিয়েছে বিজেপি। বিপরীতে, তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকলেও তাদের ভোটের হার ৪০.৮০ শতাংশ—সংখ্যায় পিছিয়েও ভোটে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রেখেছে শাসকদল। উচ্চ ভোটদানের মধ্যেই এই ফলাফল রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে ভোটগণনা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে নির্বাচন বাতিল হওয়ায় সেখানে পুনর্নির্বাচন বাকি। ইতিমধ্যেই ঘোষিত ফলাফলে বিজেপির প্রভাব স্পষ্ট—সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণ্ডি পেরিয়ে তারা এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে।


অন্যদিকে, তৃণমূল ৮০টি আসনে জয় পেলেও ভোটের শতাংশে বড়সড় ধাক্কা খায়নি। ৪০.৮০ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি প্রমাণ করছে, ভোটব্যাঙ্ক এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে অটুট। কংগ্রেস পেয়েছে ২.৯৭ শতাংশ ভোট, সিপিএম ৪.৪৫ শতাংশ এবং আইএসএফ, এজেইউপি সহ অন্যান্য দল মিলিয়ে ভোটের একটি ছোট অংশ ভাগ করে নিয়েছে। নোটা-তেও পড়েছে ০.৭৯ শতাংশ ভোট।
২০২১ সালের সঙ্গে তুলনা করলে ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। সেই সময় তৃণমূল ২১৫টি আসনে জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, বিজেপি ছিল ৭৭-এ। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভোটের মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক কৌশলের বদলে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের মঞ্চ তৈরি হয়েছে।
এবারের নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—রেকর্ড ভোটদান। দুই দফা মিলিয়ে ভোট পড়েছে ৯২.৮৫ শতাংশ, যা শুধু রাজ্যের নয়, দেশের ইতিহাসেও নজিরবিহীন। ২০২১ সালে এই হার ছিল ৮২.১৭ শতাংশ। ভোটার সংখ্যা কমলেও ভোটদানে আগ্রহ বেড়েছে—এটাই এই নির্বাচনের অন্যতম বড় বার্তা।


এসআইআর পরবর্তী পরিস্থিতিতে মোট ভোটার কমে দাঁড়িয়েছে ৬.৮২ কোটিতে, যা ২০২১ সালের ৭.৩৪ কোটির তুলনায় প্রায় ৫১ লক্ষ কম। তবে বাস্তবে ভোট দিয়েছেন ৬.৩৩ কোটি মানুষ—আগের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ, ভোটার তালিকা ছোট হলেও অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় বহু মানুষ দূরদূরান্ত থেকেও ভোট দিতে এসেছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবারেও কারচুপির অভিযোগে ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন হয়েছে। ফলতা কেন্দ্রে সম্পূর্ণ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সেখানে ভোট হবে ২১ মে এবং গণনা ২৪ মে।
সব মিলিয়ে, ভোটের শতাংশ ও আসনসংখ্যার এই বৈপরীত্যই এবারের নির্বাচনের মূল বৈশিষ্ট্য—সংখ্যায় জয় বিজেপির, কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে তৃণমূল এখনও প্রাসঙ্গিক শক্তি।







