কাকলিকে সরিয়ে ফের মুখ্যসচেতক হলেন কল্যাণ, তৃণমূল সাংসদদের ঐক্যের বার্তা মমতার

লোকসভায় মুখ্যসচেতক পদে রদবদল করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের দায়িত্ব দিলেন মমতা, সাংসদদের ঐক্য ও সংগঠনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার কড়া বার্তা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক পদে বড় রদবদল—কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে আবার দায়িত্ব দেওয়া হল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কালীঘাটে দলের সাংসদদের বৈঠকে এই ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে সাংসদদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—দলের এই কঠিন সময়ে ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকতে হবে এবং সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।

মাত্র ন’মাসের ব্যবধানে পুরনো পদে প্রত্যাবর্তন ঘটল কল্যাণের। ২০২৫ সালের অগস্টে তিনি আচমকাই মুখ্যসচেতক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন, যা গ্রহণও করেছিলেন দলনেত্রী। সেই সময় দলের অন্দরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকেই আবার এই গুরুত্বপূর্ণ সাংসদীয় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হল।

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বারাসত ও শ্রীরামপুর—দুই লোকসভা ক্ষেত্রেই তৃণমূলের ফল খুব শক্তিশালী নয়। দুই ক্ষেত্রেই ৫-২ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে দল। তা সত্ত্বেও সংসদীয় পদ বণ্টনে এই ফলাফল যে প্রধান নির্ধারক হয়নি, তা এই সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট।

দলের অন্দরমহলে এই রদবদলের কারণ নিয়ে একাধিক ব্যাখ্যা ঘুরছে। অনেকের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন আইনি লড়াই—বিশেষ করে আদালত সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় ভূমিকাই তাঁকে ফের এই পদে ফিরিয়ে আনার অন্যতম কারণ। আবার অন্য একটি মহলের মতে, দলের প্রতি তাঁর ধারাবাহিক সক্রিয়তা এবং কৌশলগত পরামর্শও নেতৃত্বের আস্থা অর্জনে সাহায্য করেছে।

অন্যদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্ষেত্রে একাধিক বিতর্ক দলকে অস্বস্তিতে ফেলছিল বলে মত একাংশের। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর পরিবারের কিছু মন্তব্য নিয়ে দলের ভিতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলেও সূত্রের দাবি। যদিও এ বিষয়ে দলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

বৈঠকে কল্যাণের ভূমিকার প্রশংসা করেন মমতা। পাশাপাশি সাংসদদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, নিজেদের কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং সংগঠনের ভিত মজবুত করতে হবে। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলকে আরও সক্রিয় হতে হবে বলেও বার্তা দেন তিনি।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। রাজ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিজেপি-বিরোধী জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কিছু জায়গায় ভুয়ো পরিচয়ে হামলার ঘটনাও সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় ঐক্যের উপরই জোর দিয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত