ভোটের দিন দুপুরে ভবানীপুরে হঠাৎই উত্তপ্ত পরিস্থিতি—‘বহিরাগত’ ঢোকার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় দৌড়তে দেখা গেল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে। অন্যদিকে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা, শুরু হয় স্লোগানযুদ্ধ। মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কালীঘাট চত্বরে।
দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ মুক্তদল মোড় এলাকায় শুভেন্দুর কনভয় পৌঁছতেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা। পাশাপাশি ‘চোর-চোর’ স্লোগানও শোনা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলে গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে যান শুভেন্দু। পরে তিনি ফোন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডেকে নেন বলে অভিযোগ।
এরপর কালীঘাটের পটুয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছলে ফের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। সেখানে তৃণমূলের স্লোগানের জবাবে বিজেপি কর্মীরাও পাল্টা ‘পিসি চোর-ভাইপো চোর’ স্লোগান দেন। দুই পক্ষের স্লোগানযুদ্ধে পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
এই অবস্থায় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করা হয়। বাহিনী ঢোকার পর তাঁদের সঙ্গেই এলাকায় ঢুকতে দেখা যায় শুভেন্দুকে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ‘বহিরাগত’ এনে এলাকায় অশান্তি তৈরি করছে এবং ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা দাবি করেছে, শুভেন্দুই ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়াচ্ছেন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অশান্ত করতে চাইছেন।
এছাড়া বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পরিবারের সদস্য কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের স্লোগান দেওয়ার নির্দেশ দেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে ভোটের দিন দুপুরে ‘বহিরাগত’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজনৈতিক তরজা থামার কোনও লক্ষণ নেই।



