নন্দীগ্রাম ছাড়লেন শুভেন্দু! ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই শপথ মুখ্যমন্ত্রীর

দুই কেন্দ্র থেকে জয় পাওয়ার পর ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র ছাড়তে হচ্ছে তাঁকে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে আরও এক বড় বার্তা। শুভেন্দু অধিকারী এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই দায়িত্ব নিলেন। বুধবার বিধানসভায় শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে গেল, তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র ছেড়ে দিচ্ছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে একসঙ্গে দুই কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দু’জায়গাতেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু। এরপর থেকেই জল্পনা ছিল, শেষ পর্যন্ত কোন কেন্দ্রকে তিনি নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেবেন। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভবানীপুরকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার বিধানসভায় তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। আজ এবং আগামীকাল মিলিয়ে মোট ২৯০ জন বিধায়কের শপথগ্রহণ পর্ব চলবে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকেই রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। সেই জয় রাজ্য রাজনীতিতে বড় মোড় এনে দিয়েছিল। পরে অবশ্য উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকে জিতে বিধায়ক পদে ফেরেন মমতা।

২০২৬ সালের নির্বাচনে শুভেন্দু আবারও রাজনৈতিক চমক দেন। একদিকে নন্দীগ্রামে লড়াই, অন্যদিকে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রার্থী হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দুই কেন্দ্রেই জয় পান বিজেপি নেতা।

নন্দীগ্রামে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন পবিত্র কর। অন্যদিকে ভবানীপুরে সরাসরি পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার বিধায়ক পদ বেছে নেওয়ার পালা ছিল শুভেন্দুর সামনে। নন্দীগ্রামে বিজয় সমাবেশে তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কোন কেন্দ্রের হয়ে তিনি কাজ করবেন। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরকেই নিজের কেন্দ্র হিসেবে রাখলেন তিনি।

এদিকে শুধু শুভেন্দুই নন, এবার দুই কেন্দ্র থেকে জয় পাওয়া আরও এক নেতা হুমায়ুন কবিরকেও একটি আসন ছাড়তে হবে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির এই নেতা রেজিনগর এবং নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছেন।

বিধানসভায় এদিন উত্তরবঙ্গের ৯ জেলা, পাশাপাশি নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্বও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দু’দিন ধরে চলবে এই অনুষ্ঠান।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত