ভোট মিটে গেলেও উত্তাপ কমেনি রাজনীতির। গণনার আগে স্ট্রংরুম ঘিরে বিতর্ক এবার নতুন মোড় নিল। দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে দীর্ঘক্ষণ উপস্থিতি নিয়ে মমতাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তাঁর ভবানীপুরের প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু। বিজেপি নেতা দাবি করেছেন, “কোনও রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ” করতে পারেননি তৃণমূল নেত্রী।
শুক্রবার সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শুভেন্দু জানান, ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটারদের তিনি আশ্বস্ত করতে চান যে স্ট্রংরুমে কোনও অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, মমতা যতক্ষণ সেখানে ছিলেন, বিজেপির ইলেকশন এজেন্ট সূর্যনীল দাস কড়া নজরদারি চালিয়েছেন, ফলে কোনও অসংগতির সুযোগ ছিল না।


বিতর্কের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে উপস্থিত ছিলেন মমতা। বেরিয়ে এসে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে এবং এখন সেই নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে নেই। পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
মমতার দাবি, বিভিন্ন জায়গায় ইভিএম সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠছে এবং সেই সূত্রেই তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। স্ট্রংরুমের বাইরে সিসিটিভি নজরদারির দাবিও তোলেন তিনি। এমনকি সতর্ক করে বলেন, “ভোটে কারচুপি হলে জীবন দিয়ে লড়ব।”
এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের বাইরে একটি তৃণমূল প্রচারভ্যান ঢোকাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ কেন সেটিকে প্রবেশ করতে দিল, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।


পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। একদিকে কারচুপির অভিযোগ, অন্যদিকে তার জোরালো প্রতিবাদ—গণনার আগে পরিস্থিতি যে আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট।







